ভূত চতুর্দশীতে ভুলেও অন্ধকার রাখবেন না এই ৮টি স্থান! ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর সঠিক নিয়ম না জানলেই বিপদ

নামের মধ্যে ‘ভূত’ শব্দটা শুনে অনেকে ভয় পেলেও, ভূত চতুর্দশীর আসল আধ্যাত্মিক তাৎপর্য লুকিয়ে রয়েছে অলক্ষ্মী ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং পিতৃপুরুষদের স্মরণের মধ্যে। কালীপুজোর আগের দিন সন্ধ্যায় এই বিশেষ তিথিতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানো এবং ১৪ শাক খাওয়ার শতাব্দী প্রাচীন বাঙালি রীতি রয়েছে।

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর দিনে খুলে যায় স্বর্গ ও নরকের দ্বার! এই বিশেষ দিনে আমাদের পরলোকগত ১৪ পুরুষ মর্ত্যে নেমে আসেন এবং নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। তাই তাঁদের পথ দেখাতে এবং ঘর থেকে সমস্ত অলক্ষ্মী তাড়াতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা বহুকাল ধরে চলে আসছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—বাড়ির ঠিক কোন কোন জায়গায় এই ১৪টি প্রদীপ রাখা উচিত এবং কোন বিশেষ টোটকা জীবন থেকে বিপদের আশঙ্কা কাটায়?

ঠিক কোন কোন জায়গায় জ্বালাবেন প্রদীপ?

শাস্ত্র, বাস্তু ও প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, পূর্বপুরুষদের আত্মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং ঘরের নেতিবাচক শক্তি তাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা অত্যন্ত শুভ:

১. ঠাকুরঘর বা পুজোর স্থান: পরিবারের ইষ্টদেবতা ও দেব-দেবীর আরাধনা করে পুজোর জায়গায় প্রথম প্রদীপটি জ্বালানো উচিত।

২. পবিত্র তুলসীমঞ্চ: সনাতন রীতি অনুযায়ী প্রতিটি শুভ অনুষ্ঠানে তুলসীতলা আলোকিত করা আবশ্যিক। সেখানে একটি প্রদীপ দিন।

৩. সদর দরজার দু’পাশ (বিশেষ টোটকা): বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারের দু’পাশে দুটি প্রদীপ রাখুন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, এই প্রদীপ দুটিতে একটি করে লবঙ্গ দিয়ে দিলে ঘরে অশুভ বা নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না।

৪. সদর দরজার ঠিক মাঝখান: প্রধান দরজার ঠিক মাঝখানে একটি মাটির প্রদীপে সামান্য গুড় রেখে তা জ্বালানোর বিশেষ বিধান রয়েছে।

৫. জলের স্থান: বাড়িতে যেখানে জল রাখা হয় (যেমন—রান্নাঘরের জলের কল, চৌবাচ্চা বা জলের ফিল্টারের পাশে), সেই স্থানটিতে প্রদীপ রেখে আলোকিত করা প্রয়োজন।

৬. বাড়ির দক্ষিণ দিক: জ্যোতিষশাস্ত্র ও হিন্দুধর্ম মতে, দক্ষিণ দিক হলো যমরাজের দিক। তাই নিজের ও পরিবারের সৌভাগ্য বৃদ্ধি এবং অকালমৃত্যুর ভয় কাটাতে বাড়ির দক্ষিণ দিকে অবশ্যই একটি প্রদীপ জ্বালানো উচিত।

৭. অন্যান্য অন্ধকার কোণ: বাড়ির ছাদ, সিঁড়ি, বাথরুমের বাইরে বা যে কোণগুলিতে সাধারণত অন্ধকার থাকে, বাকি প্রদীপগুলি সেখানে রেখে পুরো বাড়ি আলোয় ভরিয়ে তুলতে হবে।

বিশেষ নিয়ম ও টোটকা:

অন্ধকার রাখা যাবে না: ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় ঘরের কোনও অংশ যেন অন্ধকারে ডুবে না থাকে। সমস্ত কোণে পর্যাপ্ত আলো বা প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক।

গীতা পাঠ: সম্ভব হলে ভূত চতুর্দশীর দিন সকাল ও সন্ধ্যায় পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করুন। এটি মন ও গৃহপরিবেশকে অত্যন্ত পবিত্র ও পজিটিভ শক্তিতে ভরিয়ে রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *