গাজিয়াবাদ বিস্ফোরণের দায় নিল রহস্যময় নতুন জঙ্গি সংগঠন! নেপথ্যে কি পাকিস্তানি আইএসআইয়ের বিরাট কোনো ছক?

দিল্লির সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরম থানার অন্তর্গত বসন্ধুরা পুলিশ চৌকিতে ঘটা রহস্যময় বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘তহরিক উল মুজাহিদীন হিন্দুস্তান’ (Tehreek-ul-Mujahideen Hindustan) নামের একটি অপরিচিত সংগঠন বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে একটি পোস্ট দেয়। তবে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির সূত্র বলছে, এই নামে এর আগে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব বা কার্যকারিতার রেকর্ড ছিল না। এটি পুরোপুরি নতুন কোনো গোষ্ঠী নাকি পুরনো কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচ্ছায়া, তা নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুরোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র নাকি নিছকই নাম ভাঙানোর খেলা?
তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর গিয়েছে অতীতে নিষিদ্ধ হওয়া একটি সংগঠনের দিকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘Tehreek-ul-Mujahideen (TuM)’ নামের একটি উগ্রপন্থী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। মূলত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) বা পিওকে থেকে এই সংগঠনটি তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনার দায় নেওয়া ‘তহরিক উল মুজাহিদীন হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে ওই নিষিদ্ধ টিউএম (TuM)-এর কোনো প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দারা মনে করছেন, কেবল নামের হুবহু মিল বা আংশিক সামঞ্জস্য রেখে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বা বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
আইএসআই ও শাহজাদ ভাট্টির নাম নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে গভীর কোনো নাশকতার ছক থাকতে পারে। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) তাদের স্থানীয় স্লিপার সেল বা হ্যান্ডলারদের ব্যবহার করে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই পুরো ঘটনার সঙ্গে কুখ্যাত ব্যক্তি শাহজাদ ভাট্টির নামও সামনে আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো পোক্ত প্রমাণ বা আইনি স্বীকৃতি মেলেনি, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবির সত্যতা যাচাই এবং এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি আধার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন দুন ও জাতীয় স্তরের তদন্তকারীরা। গাজিয়াবাদের এই বিস্ফোরণ কেবল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা জনিত বিষয় নয়, এর শিকড় বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত কি না, তা এখন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অন্বেষণ করছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল।