জন্মদিনেই কালীঘাটে রক্তগঙ্গা! অভিষেকের বাড়ির সামনে রাতভর ধুন্ধুমার, প্রাণে মারার চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ

উৎসবের আমেজ ও জন্মদিনের আনন্দের মধ্যেই গভীর রাতে চরম উত্তেজনায় কেঁপে উঠল কলকাতার কালীঘাট এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের ঠিক প্রাক্কালে তাঁর বাড়ির সামনে ঘটে গেল নজিরবিহীন ও সংঘাতমূলক ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু করে শনিবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মী ও বিজেপি সমর্থকরা। দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও তীব্র বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় ৪ ঘণ্টা নিজের বাড়ির সামনে রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন তিনি।
প্রাণে মারার চক্রান্তের অভিযোগ অভিষেকের:
এই সংঘাতে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে প্রাণে মেরে ফেলার জন্যই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “আজ পরিকল্পিতভাবে এরা হত্যা করার জন্য এসেছিল। হামলা চালিয়ে অফিস ভেঙে আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত করা হয়েছে, এমনকি পুলিশকেও মারা হয়েছে। কারও চোখের নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছে। এত বড় বড় পাথর ও আধলা ইট ছুড়ে মেরেছে, আর পুরো ঘটনাটি ঘটেছে পুলিশের সামনে।”
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমার ওপরে প্রথম আক্রমণ নয়। এর আগে সোনারপুর থেকে শুরু করে ১৯ জুন আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। আমায় বন্দুক নিয়ে খুন করতে এসেছিল। আমাদের কর্মীরা হাতেনাতে ধরেছিল, আমরা থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”
পুলিশের নোটিস ও এলাকায় চরম উত্তেজনা:
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস জারি করা হয়। এমনকী কালীঘাটে সাংসদের বাড়ির চত্বরে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় অভিষেকের ব্যানার, ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্লোগানে-পাল্টা স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সাংসদের অনুগামীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
টাকা উদ্ধার কাণ্ড নিয়ে ফের সরব অভিষেক:
অন্যদিকে, সম্প্রতি তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস থেকে টাকা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুক পেজে একটি গাড়ি নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG) এবং আইজি (IG)-কে মেইল পাঠিয়ে বিধায়ক শামিম আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য খোদ উচ্চপদস্থ এক পুলিশকর্তা যে গাড়িটি ব্যবহার করেন, সেই গাড়িতে করেই পার্টি অফিসে টাকা রেখে দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জন্মদিনের রাতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক তরজায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।