মন্ত্রী পত্নীকে জাল সই করে কোম্পানির ডিরেক্টর পদ থেকে সসারণ! ৪৪টি মামলার গ্যাংস্টার স্বামী অবশেষে ঝাঁসি থেকে গ্রেফতার!

উত্তরাখণ্ডের ক্যাবিনেট মন্ত্রী রেখা আর্যর (Rekha Arya) স্বাক্ষর জাল করে এবং কুপ্ররোচনা ও কূটারচিত নথির সাহায্যে তাঁকে ৪টি কোম্পানির ডিরেক্টর পদ থেকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় বড় সাফল্য পেল দেরাদু পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা মূল অভিযুক্ত গিরধারী লাল সাহু ওরফে পাপ্পু এবং তার ভাইপো সত্যেন্দ্র রাঠোরকে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি ও বরেলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ এনেছিলেন মন্ত্রী রেখা আর্য?
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেরাদুনের কোতোয়ালি ক্যেন্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী রেখা আর্য। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাঁর পূর্বের বিবাহিত জীবন এবং অন্যান্য তথ্য গোপন করে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্ত্রীকে মারধর করা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতসূচক শব্দ ব্যবহার করে অপমান করার গুরুতর অভিযোগও তোলা হয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে বড় কথা, মন্ত্রীকে না জানিয়ে তাঁর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে এবং ভুয়া ও কূটারচিত বা ‘ফেক’ কাগজ তৈরি করে তাঁকে একাধিক লাভজনক কোম্পানির ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফন্দি আঁটে অভিযুক্ত গিরধারী লাল সাহু।
অপরাধের লম্বা ইতিহাস: রয়েছে ৪৪টি ফৌজদারি মামলা!
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক ভয়ংকর তথ্য। ধৃত প্রধান অভিযুক্ত গিরধারী লাল সাহুর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, দাঙ্গা বা বলওয়া এবং কুখ্যাত ‘গ্যাংসট্যার অ্যাক্ট’ (Gangster Act)-এর মতো গুরুতর অপরাধে মোট ৪৪টি মামলা ঝুলছে। দীর্ঘদিন ধরেই সে আইনপ্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
রাজ্যজুড়ে তল্লাশি ও ঝাঁসি থেকে গ্রেপ্তার
মন্ত্রীকে জালিয়াতির মামলায় ফাঁসানোর এই ঘটনার পর থেকেই আসামীদের ধরতে তৎপর হয় দেরাদুন পুলিশ। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে পুলিশের আলাদা আলাদা দল অভিযান চালায়। ইলেকট্রনিক সার্ভিলিয়েন্স এবং গোপন খবরের ভিত্তিতে গত ৬ নভেম্বর পুলিশের বিশেষ দল ঝাঁসি থেকে মূল অভিযুক্ত গিরধারী লাল সাহু এবং বরেলির জोगी नवादा এলাকা থেকে তার ভতিজা সত্যেন্দ্র রাঠোরকে পাকড়াও করে।
বর্তমানে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT)-র কড়া হেফাজতে রেখে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই প্রতারণার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং জালিয়াতির জাল ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।