প্রেমিকের বিশ্বাসঘাতকতা আর চরম পরিণতি! ৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেল ফিটোজাবাদের গ্যাংরেপিতা কিশোরী!

উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলায় ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনায় শেষরক্ষা হলো না। গত ছয় দিন ধরে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে শুক্রবার প্রাণ হারাল ১৭ বছরের এক কিশোরী। বন্ধুর ফাঁদে ফেলে সংঘটিত এই পৈশাচিক গ্যাংরেপকাণ্ডে মেয়েটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অন্যদিকে, ময়নাতদন্তের সময় পোস্টমর্টেম হাউসে ভিড় জমিয়ে ভীম আর্মির কর্মী ও স্থানীয়রা তুমুল বিক্ষোভ ও হাঙ্গামা শুরু করেন। পরে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় কিশোরীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল গত ৩১ অক্টোবর?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজাবাদের খেড়াগড় এলাকার বাসিন্দা ওই ১৭ বছরের কিশোরীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত যুবকের নাম ঋষি (যে ওই কিশোরীর বয়ফ্রেন্ড বলে পরিচিত)। গত ৩১ অক্টোবর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রেমিক ঋষি ফোন করে ডেকে পাঠায় তাকে।

অভিযোগ, নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর ঋষি ও তার বন্ধুরা মিলে কিশোরীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। মেয়েটি তীব্র প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে গলার কাছে ও শরীরে বেধড়ক মারধর করে। এরপর গড়ের মাঠে বা গন্নার ক্ষেতে ফেলে প্রথমে লাথি-ঘুঁষি ও পরে ইঁট দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে দেয় পাষণ্ডরা। ১ নভেম্বর সকালে বাড়ির লোকজন তাঁকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় একটি সবজি খেত থেকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাঁকে আগ্রার এসএন মেডিকেল কলেজে ভরতি করা হয়, যেখানে দীর্ঘ ছয় দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে অবশেষে শুক্রবার তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পুলিশের এনকাউন্টার ও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারি
এই ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক ঋষি, তার দাদা জগৎ এবং তাদের বন্ধু শিবাংশু ওরফে আশিককে চিহ্নিত করে পুলিশ।

ঘটনার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ১ নভেম্বর সকালেই পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ বা এনকাউন্টারে জড়িয়ে পড়ে মূল অভিযুক্ত ঋষি ও তার দাদা জগৎ। পুলিশের গুলিতে তারা আহত হয় এবং পুলিশ তাদের পাকড়াও করে। এর পরের দিনই অপর অভিযুক্ত বন্ধুকেও গ্রেফতার করে জেলের গরাদে পাঠায় পুলিশ প্রশাসন।

হাসপাতালে মৃত্যুর পর উত্তাল পরিস্থিতি
শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরীর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ময়নাতদন্তের জন্য যখন মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন ভীম আর্মির কর্মী ও স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এএসপি (ASP) এবং शिकোहाबाद (Shikohabad)-এর এসডিএম (SDM)। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পর তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পাহারা ও নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে মৃত কিশোরীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় এখনও থমথমে ও শোকের পরিবেশ বজায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *