অভিষেকের পিএ-কে ৮ দিনের হেফাজত! জমি কেলেঙ্কারিতে ধৃত সুমিত রায়কে নিয়ে বড় মোড় সিআইডি তদন্তে

চাঞ্চল্যকর জমি জালিয়াতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে ৮ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত। সম্প্রতি অভিষেকের বাড়ি থেকে সুমিতকে গ্রেফতার করার পর এ দিন তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়কে গ্রেফতারের পর সিআইডির পক্ষ থেকে তাঁকে ৮ দিনের হেফাজতে নেওয়ার জোরালো আবেদন জানানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা আদালতে জানান, ডেবরার একটি মামলায় প্রথম তাঁর নাম উঠে এসেছিল এবং পরবর্তীতে শালবনির এই জমি দুর্নীতি কাঙ্কেও তাঁর যোগসূত্র পাওয়া যায়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ দিন আদালতে সুমিত রায়ের আইনজীবী জামিনের কোনো আবেদন করেননি।
শুনানিকালে ধৃতের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়ার গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাই ঘুমানোর সময় একটি বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। সিআইডি হেফাজতে থাকাকালীন যাতে সেই যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় এবং সপ্তাহে একদিন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়, সেই মর্মে দুটি পৃথক আবেদন করার পরামর্শ দেন বিচারক।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি দুর্নীতির এই জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে সুমিত রায়ের পাশাপাশি অপর ধৃত তথা মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে সিআইডি। মূলত সুমিত ও সুজয়ের হাত ঘুরে এই জালিয়াতির অবৈধ অর্থ কোথায় বা কার কাছে পাচার হতো, এখন সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।