মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায়? অ্যাপের রাইড শেষ হতেই চালকের অশ্লীল মেসেজ, তোলপাড় নেটদুনিয়া!

দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনে অ্যাপ-নির্ভর পরিষেবা এখন আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই সুবিধার আড়ালে সাধারণ গ্রাহকদের, বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা ঠিক কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে আরও একবার গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেল। নয়ডার এক তরুণী একটি সাধারণ পার্সেল পাঠানোর জন্য বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা ‘র্যাপিডো’ (Rapido) বুক করে চরম হেনস্থার মুখে পড়েছেন। ডেলিভারি শেষ হতেই চালক তাঁকে ব্যক্তিগত চ্যাটে সরাসরি ‘আই লাভ ইউ’ (I Love You) পাঠায় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গীতিকা শ্রীবাস্তব নামের ওই তরুণী। পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইনে চালকের সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট পোস্ট করে তিনি জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর ডেলিভারি পার্টনার তাঁকে প্রথমে ‘হ্যালো’ এবং পরে কোনো ভূমিকা ছাড়াই সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেয়। অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন অবাঞ্ছিত ও আপত্তিকর বার্তা পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই তরুণী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ফের যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সোজা পুলিশের কাছে যাবেন।
কিন্তু চালকের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও মারাত্মক। কোনো অনুশোচনা বা ভয়ের লেশমাত্র না রেখে সে উল্টে ঔদ্ধত্যের সুরে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ করে দিন। যান, র্যাপিডোতে গিয়েও নালিশ করুন।” চালকের এই বেপরোয়া চ্যালেঞ্জ তরুণীকে আরও বেশি উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংস্থাগুলো ঠিক কী ধরনের লোকজনকে কাজে রাখছে?
পোস্টটি দ্রুত নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হতেই নারী নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। চাপের মুখে পড়ে র্যাপিডো কর্তৃপক্ষ দ্রুত তরুণীর কাছে ক্ষমা চায় এবং অভিযুক্ত চালককে প্ল্যাটফর্ম থেকে চিরতরে বরখাস্ত ও তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্লক করার কথা ঘোষণা করে। তবে সংস্থার তরফ থেকে পদক্ষেপেও ক্ষোভ কমেনি নেটিজেনদের। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর যাতে চালকদের হাতে না পৌঁছায়, তার জন্য অবিলম্বে ‘নম্বর মাস্কিং’ (Number Masking) প্রযুক্তি এবং কঠোর পুলিশ ভেরিফিকেশন চালুর দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।