ফ্রিজে রাখা দু’দিনের বাসি খাবার খাচ্ছেন? অজান্তেই শরীরে মারাত্মক বিষ ঢোকাচ্ছেন না তো? জানুন চিকিৎসকদের ভয়ানক সতর্কবার্তা!

ব্যস্ততার যুগে সময় বাঁচাতে অনেকেই ছুটির দিনে বা একসঙ্গে দু’দিনের রান্না করে ফ্রিজে জমিয়ে রাখেন। রোজ অফিস যাওয়ার আগে বা বাড়ি ফিরে সেই খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করে খাওয়াটাই এখন বেশিরভাগ মানুষের আধুনিক জীবনযাত্রার অঙ্গ। একে ফ্যাশনেবল ভাষায় ‘মিল প্রিপ’ (Meal Prep) বলা হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকরা বলছেন, সামান্য সুবিধার জন্য এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।
খাবারের পুষ্টিগুণ কি আদৌ থাকে? বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা খাবার ফ্রিজে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত নিরাপদে রাখা সম্ভব। তবে যতবার খাবার গরম করা হয়, ততবার তার থেকে ভিটামিন সি, বি১২ এবং ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে থাকে। শাকসবজি রান্না করার দুদিন পর তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুষ্টি হারিয়ে ফেলে। তবে ভাত, ডাল বা মাংসের প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট কিছুটা অটুট থাকে।
বড় বিপদ ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পুষ্টির ঘাটতির চেয়েও বড় আতঙ্কের বিষয় হলো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। রান্না করার পর খাবার দীর্ঘক্ষণ বাইরে খোলা রাখলে তাতে দ্রুত জীবাণু জন্মায়। এছাড়া ফ্রিজে রাখলেও যদি খাবার ঠিকমতো গরম না করা হয়, তবে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া বা পেটের মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে সেদ্ধ আলু, পালং শাক, বা ভাতের সঙ্গে মেশানো খাবার এক দিনের বেশি ফ্রিজে রাখলে তা থেকে বিষাক্ত উপাদান তৈরি হতে পারে।
সুরক্ষিত থাকার কিছু সহজ নিয়ম:
-
রান্নার দুই ঘণ্টার মধ্যেই খাবার ঠান্ডা করে এয়ারটাইট কন্টেনারে ভরে ফ্রিজে রাখুন।
-
বড় পাত্রে পুরো খাবার না রেখে ছোট ছোট কৌটোয় ভাগ করে রাখুন, যাতে বারবার পুরো খাবার গরম করতে না হয়।
-
যেটুকু খাবার খাবেন, ঠিক সেটুকুই ভালো করে ফুটিয়ে বা গরম করে নিন। বারবার গরম-ঠান্ডা করলে ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব বাড়ে।
সুবিধার জন্য খাবার ফ্রিজে রাখতেই পারেন, তবে শরীর সুস্থ রাখতে সবসময় টাটকা খাওয়ার অভ্যাস করাই সবচেয়ে শ্রেয়।