ডলারের পতন, রুপির রেকর্ড উত্থান! মাত্র এক ধাক্কায় ৪৭ পয়সা চাঙ্গা হলো ভারতীয় মুদ্রা

বৈশ্বিক ফরেক্স বাজার এবং আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে ভারতীয় রুপি। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৪৭ পয়সা বেড়ে ৯৪.২৬-এ পৌঁছেছে। মূলত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) এফসিএনআর (বি) প্রকল্পের জেরে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ভারতে আসায় এই মজবুত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক ডলার সূচকের পতন, অপরিশোধিত তেলের দামের স্থিতিশীলতা এবং দেশীয় শেয়ারবাজারে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) নতুন মূলধন প্রবাহ ভারতীয় মুদ্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সমর্থন জুগিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও এই পুনরুদ্ধার দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির শক্তি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন।

রুপির এই শক্তিশালী বৃদ্ধির মূল কারণগুলি কী?

রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে ভারত বৈদেশিক মুদ্রা আমানত থেকে রেকর্ড ১২৭.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে।

ডলার সূচকের পতন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদার মধ্যে ডলার সূচক ০.১৬ শতাংশ কমে ৯৯.৪৩-এ নেমে এসেছে।

তেলের দামের স্থিতিশীলতা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেও ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ০.১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৪৮ মার্কিন ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী গতি: বৃহস্পতিবারের শুরুতে সেনসেক্স ২২১.১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৬,৭৯১.৫২ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫৯.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৯৭৪ পয়েন্টে পৌঁছায়। এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একদিনেই ৬,৬৮৮.৩৭ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করেছেন।

এফসিএনআর(বি)-এর দ্বিমুখী প্রভাব

যদিও এই বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ রুপিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে আরবিআইকে যথেষ্ট স্বস্তি দিচ্ছে, তবে এটি ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। ব্যাংকগুলো আরবিআই-এর সাথে আমানত বিনিময় করায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য উদ্বৃত্ত প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে বলে জানিয়েছে আর্থিক গবেষণা সংস্থা আইএফএ গ্লোবাল। উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র এফসিএনআর (বি) আমানতে প্রবাহ ১২৭.২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ এবং বাহ্যিক বাণিজ্যিক ঋণ মিলিয়ে এই প্রকল্পের মোট প্রবাহ ১৩৬.৩৭৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *