হাসপাতালে যাওয়ার পথে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে গাড়ি তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ! ঔরঙ্গাবাদের নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য

বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জেলা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে গাড়ি থামিয়ে অপহরণ করার পর নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। গত সোমবার ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তার বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কুটুম্বা থানায় হাজির হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তিন অভিযুক্তের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তৃতীয় জন এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাকে ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই পৈশাচিক ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় এবং তার বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। ঘটনার দিন তার বাবা কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন এবং মা ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিশোরীটিও একা একাই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের উদ্দেশ্যে হেঁটে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিল।
ভুক্তভোগীর জবানবন্দি অনুযায়ী, সে যখন বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পৌঁছায়, তখন একটি গাড়ি তার সামনে এসে থামে। গাড়িতে থাকা তিন যুবক তাকে জিজ্ঞাসা করে সে কোথায় যাচ্ছে। মেয়েটি জানায় যে তার শরীর খারাপ থাকায় সে কুটুম্বা হাসপাতালে মায়ের কাছে যাচ্ছে। অভিযোগ, এরপরই অভিযুক্তরা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নেয় এবং চিৎকার রোধ করতে তার মুখ বেঁধে ফেলে। এমনকি তার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেওয়া হয়। কিশোরীটি বারবার কান্না করে ও হাতজোড় করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও পাষণ্ডরা কোনো দয়া দেখায়নি।
প্রাণভিক্ষা ও অডিও ক্লিপের চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিযোগ রয়েছে, আম্বা বাজার থেকে এনএইচ ১৩৯ হয়ে শঙ্করপুর ওভারব্রিজের নিকটবর্তী ধাওয়া গ্রামে নিয়ে গিয়ে ওই নাবালিকার ওপর নির্মম শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগী জানিয়েছে, অভিযুক্তদের নিজেদের মধ্যে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করতে শুনে সে ভয়ে তাদের পায়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চায়। সে এও বলে যে তারা যেখানেই ডাকবে সে সেখানেই যাবে। এরপর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় এবং তার ফোনটি ফেরত দেয়। বাড়ি ফিরে সে তার দাদা-দাদি এবং পরে বাবা-মাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
তদন্তে নেমে পুলিশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হাতে পেয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের কাছে একটি অডিও রেকর্ডিং জমা দিয়েছে, যা ওই গাড়িতে থাকাকালীন মোবাইল ফোনে রেকর্ড হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই অডিওতে উচ্চস্বরে ভোজপুরি গান বাজতে শোনা যাওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের একজনকে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে একুশজন মেয়েকে শিকার করার কথা বলতে শোনা গেছে। ঔরঙ্গাবাদের এসপি উপেন্দ্রনাথ ভার্মার নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ এসআইটি (SIT) দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে তাদের গ্রাম থেকে পাকড়াও করেছে এবং শেষ অভিযুক্তকে ধরতে চিরুনি তল্লাশি চলছে। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য ঔরঙ্গাবাদ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।