“বাবা বাড়ির পেছনে গর্ত খুঁড়ছেন মা!” ভয়ে শিউরে ওঠা শেষ ফোন কলের পরেই নিখোঁজ যুবতী, তারপর যা মিলল…

পঞ্জাবের অমৃতসর জেলার মত্তেওয়াল থানা এলাকা থেকে সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। চরিত্রের সন্দেহের বশে নিজের ১৯ বছরের যুবতী মেয়েকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে খোদ বাবার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অপরাধ ঢাকতে বাড়ির পেছনের জমিতে ৩ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মেয়ের মৃতদেহ পুঁতে দেওয়ারও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার পুলিশের সহায়তায় জেসিবি দিয়ে মাটি খুঁড়ে মৃতার গলিত দেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই যুবতীর নাম নবনিত কৌর। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক অশান্তি এবং স্বামীর নিত্যদিনের কোন্দলে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৫ আগস্ট নিজের বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন মৃতার মা সবরবজিত কৌর।

গত ৩১ আগস্ট মেয়ে নবনিত ঘাবড়ানো গলায় মাকে ফোন করে জানায়, “বাবা বাড়ির বাইরে একটা বড় গর্ত খুঁড়ছেন।” এই কথোপকথনের পরেই নবনিতের সঙ্গে মায়ের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর মেয়ের খোঁজ করলে অভিযুক্ত স্বামী নানা অজুহাত দিতে শুরু করে এবং দাবি করে যে সে নবনিতকে ৬ মাসের জন্য বাইরে কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছে।

তাজা মাটি দেখেই বাড়ল সন্দেহ

স্বামীর কথায় অসঙ্গতি দেখে সবরবজিত কৌরের মনে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। গত বুধবার তিনি সোজা মত্তেওয়ালের নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। মেয়ে যে জায়গাটায় গর্ত খোঁড়ার কথা বলেছিল, সেখানে গিয়ে তাজা মাটি দেখতে পেয়ে তাঁর সন্দেহ আরও জোরালো হয়। এরপরই তিনি সঙ্গে সঙ্গে মত্তেওয়াল থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে নবনিতের নিথর দেহ। দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই সংজ্ঞা হারান মা।

বড় মেয়ের পলায়নই কি কাল হল ছোট মেয়ের?

সবরবজিত কৌর পুলিশকে জানিয়েছেন, মাস আটেক আগে তাঁদের বড় মেয়ে ভালোবেসে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং ছোট মেয়ে নবনিতের ওপরও অনৈতিক সন্দেহের বশে নজর রাখতেন। তাঁর ধারণা ছিল ছোট মেয়েরও কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে রয়েছে। এই অন্ধ সন্দেহ ও কুসংস্কারের বশে যে তিনি নিজের রক্তেই হাত পাকাতে পারেন, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ।

মত্তেওয়াল থানার এসএইচও দলজিৎ সিং জানিয়েছেন, মৃতার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিতার বিরুদ্ধে খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা পলাতক রয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ ও রহস্য স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *