প্রায় ২০০ কোটির প্রোজেক্ট! বিহারের দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা তৈরিতে কোন বড় চমক থাকছে বোধগয়ায়?

বিহারের সাধারণ মানুষ তথা পর্যটকদের জন্য এক দারুণ সুখবর। রাজ্যের দ্বিতীয় চিড়িয়াখানাটি নির্মিত হতে চলেছে ঐতিহাসিক বোধগয়া শহরে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ে গড়ে উঠতে চলা এই চিড়িয়াখানাটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হলে বোধগয়ায় আগত প্রায় ৪০ লক্ষ দেশি ও বিদেশি পর্যটক একদম প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পাবেন।

১১0 একর জুড়ে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো

বোধগয়ায় নির্মিতব্য এই চিড়িয়াখানা কমপ্লেক্সটি মোট ১১০ একর জমির উপর বিস্তৃত থাকবে। এখানে পশুপাখিদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষ নকশা তৈরি করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুরক্ষা এবং বন্যপ্রাণীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে খাঁচার সামনের অংশ সম্পূর্ণ শক্ত কাচ দিয়ে তৈরি করা হবে, যাতে নির্ভয়ে পশুপাখিদের দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিটি খাঁচার বাইরে থাকবে স্মার্ট ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, যেখান থেকে দর্শনার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রাণী সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে পারবেন।

এই চিড়িয়াখানায় সিংহ, বাঘ, জিরাফ, গণ্ডার, ভালুক, হরিণ, চিতাবাঘ, কুমির, গৌর এবং ময়ূর সহ ৫০টিরও বেশি প্রজাতির প্রাণী ও পাখি রাখা হবে।

কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ক্লারিফিকেশন ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ইতিমধ্যে রাজ্য বন বিভাগ দিল্লির কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাব খতিয়ে দেখার পর কর্তৃপক্ষ ১৫টি বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়েছে। বিশেষ করে বড় প্রাণীদের জন্য খাঁচার পরিসর বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট প্রজাতি অনুযায়ী সঠিক খাঁচা নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা সংক্রান্ত একটি কারিগরি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। রাজ্য বন বিভাগ এই মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গেছে। সমস্ত মানদণ্ড খতিয়ে দেখে আগামী দুই মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কী কী আধুনিক সুবিধা মিলবে এখানে?

দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই চিড়িয়াখানায় একাধিক আধুনিক পরিষেবা রাখা হয়েছে:

অনলাইন টিকেটিং ও কিউআর কোড স্ক্যান করে টিকিট কাটার ব্যবস্থা।

গাড়ি, বাস ও বাইকের জন্য আলাদা এবং সুপরিসর পার্কিং জোন।

চিড়িয়াখানার ভেতরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ই-রিকশার বন্দোবস্ত।

বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য ওয়াটার কুলার ও ওয়াটার এটিএম।

পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচাগার, বসার বেঞ্চ, ছাউনি এবং সুদৃশ্য বিশ্রাম এলাকা।

খাবারদাবারের পর্যাপ্ত স্টল ও রেস্তোরাঁ।

শিশুদের বিনোদনের জন্য নেচার-বেসড প্লে জোন ও চিলড্রেন পার্ক।

হিন্দি ও ইংরেজিতে প্রতিটি প্রাণীর বিবরণ সংক্রান্ত তথ্যমূলক সাইনবোর্ড।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *