বিহারে যাতায়াত এবার আরও ব্যয়বহুল! ৫৫টি রাজ্য মহাসড়ক ও ৪৭টি সেতুতে টোল আদায়ের বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

বিহারের সড়ক ও সেতুপথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের জন্য আগামী দিনে ভ্রমণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে। রাজ্য সরকার প্রধান রাজ্য মহাসড়ক এবং বড় সেতুগুলিতে সড়ক ব্যবহারকারী ফি বা টোল ট্যাক্স আদায়ের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ে টোল আদায়ের জন্য মোট ৫৫টি রাজ্য মহাসড়ক এবং ২৫০ মিটারের বেশি দীর্ঘ ৪৭টি সেতুকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে এই নির্বাচিত রাস্তা ও সেতুগুলিতে তাৎক্ষণিকভাবে টোল আদায় শুরু হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে একটি বিস্তারিত যান চলাচল সমীক্ষা চালানো হবে। এই সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে টোল প্লাজার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তীতে আধুনিক ফাস্টট্যাগ-ভিত্তিক টোল প্লাজা নির্মাণ এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর একটি কার্যকর সংস্থা নির্বাচন করা হবে। এই সম্পূর্ণ পরিকাঠামো তৈরি এবং পরামর্শক পরিষেবা নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৩০৯.৪ মিলিয়ন (প্রায় ৩০.৯৫ কোটি) টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় অনুমোদন
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিহার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে। বৈঠকের পর অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অরবিন্দ চৌধুরী জানান যে, রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রাজ্য মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন থেকে সড়ক ব্যবহারকারী ফি আদায়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি প্রস্তুত করতে পরামর্শক সংস্থা নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
যেভাবে ধাপে ধাপে রূপায়ণ হবে এই প্রকল্প
চিহ্নিত সড়ক ও সেতুগুলোতে হুট করে টোল আদায় শুরু হবে না। এর জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপ পার করতে হবে:
যান চলাচল সমীক্ষা: প্রথমে নির্বাচিত রাষ্ট্রীয় মহাসড়ক ও সেতুগুলোতে ট্রাফিক সার্ভে চালানো হবে, যাতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী যানবাহনের সংখ্যা এবং তার ধরন নিখুঁতভাবে জানা যায়।
টোল প্লাজার অবস্থান নির্ধারণ: জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা হবে কোন স্থানে টোল প্লাজা বসালে সবচেয়ে বেশি সুফল মিলবে।
ডিজিটাল ফাস্টট্যাগ ব্যবস্থা: আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে টোল প্লাজাগুলিতে ফাস্টট্যাগ-ভিত্তিক ডিজিটাল টোল আদায়ের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
পরামর্শক ও সংস্থা নিয়োগ: ট্র্যাফিক সমীক্ষা, টোল প্লাজার পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরির জন্য পরামর্শক সংস্থার সাহায্য নেওয়া হবে, যার জন্য আনুমানিক ৩০.৯৫ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
কাদের উপর প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি?
এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকদের যাতায়াত খরচ সরাসরি বেড়ে যাবে। যাঁদের নিয়মিত জরুরি প্রয়োজনে এই পথগুলো ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের পকেটে বাড়তি টান পড়বে। অন্যদিকে, বাস, ট্রাক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হলে পরিবহন পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর জেরে বাসভাড়া এবং পণ্য পরিবহনের খরচও উর্ধ্বমুখী হতে পারে। তবে সরকারের দাবি, এই টোল থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব পরবর্তীতে রাস্তা ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নত অবকাঠামো গড়েই ব্যয় করা হবে। এখনও পর্যন্ত প্রতিটি রুটের সুনির্দিষ্ট টোলের হার ঘোষণা করা না হলেও, সামগ্রিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বাড়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে।