চোখের সামনেই বেনিয়ম, তবু পদক্ষেপহীন প্রশাসন? অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে পুরমন্ত্রী ও দমকল

তারাপীঠের শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এবার ঘটনাস্থল খোদ কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা। মঙ্গলবার গভীর রাতে এক গেস্টহাউসে বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে প্রাণ হারালেন ৯ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। একদিকে যখন মৃতদের পরিবারের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী, অন্যদিকে পুরসভা এবং দমকল দপ্তরের বিরুদ্ধে উঠেছে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ।

কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে?
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত দুটো নাগাদ নিউ মার্কেটের ওই হোটেলে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। রাতের অন্ধকারে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের আবাসিকরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে বড় অঘটন ঘটে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিক বেপাত্তা, তবে পুলিশ ম্যানেজারকে আটক করেছে।

দায় নিয়ে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি তৃণমূল জমানার দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “পনেরো বছর ধরে যে সরকার চালিয়ে গেল, তাদের এই গাফিলতির দায় নিতেই হবে। এই এলাকায় একই বিল্ডিংয়ের মধ্যে ১০টি পর্যন্ত গেস্টহাউস চলছে। একশো দিনের মধ্যে এই দু’নম্বরি কারবার বন্ধ করা সম্ভব নয়।” তাঁর দাবি, হোটেলের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলো অকেজো ছিল। বিগত পনেরো বছরে কোনো অডিট না হওয়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোড বা ওভারলোডিংয়ের কারণে এই অগ্নিকাণ্ড হতে পারে বলেও সিইএসসি-র ভূমিকার দিকে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সোমবারই তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লেগে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের একই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, শহরের গেস্টহাউসগুলোতে কি পর্যাপ্ত সুরক্ষাবিধি মানা হচ্ছে? নাকি নাকের ডগায় অবাধে চলা এই বেআইনি গেস্টহাউসগুলোই এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে? এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *