২০৩৬ সালের মধ্যে ২০ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি! ভারতকে সুপারপাওয়ার বানাতে ২০ দফার রোডম্যাপ পেশ

আগামী এক দশকের মধ্যে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার বড়সড় লক্ষ্য সামনে এল। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইকুইরাসের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। তবে এর জন্য প্রথাগত ধারার বাইরে বেরিয়ে অত্যন্ত দ্রুত ও ব্যাপক সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। বর্তমানের প্রায় ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন বার্ষিক প্রায় ১৮ শতাংশ নামমাত্র প্রবৃদ্ধি।

চীন একসময় প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে টানা ১১ বছর ধরে ডলারের হিসেবে এই হার বজায় রেখেছিল। সেই ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পক্ষে এই মাইলফলক স্পর্শ করা অসম্ভব নয়, তবে এর জন্য সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। পরিকাঠামো, পুঁজিবাজার, মানবসম্পদ, পরিষেবা খাত, নগর শাসন এবং সামগ্রিক বাস্তব অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে মোট ২০টি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু অভিনব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানিকে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি-র আওতায় আনা এবং রাজ্যগুলোকে তাদের বাজেটের মূলধনী বরাদ্দ পুরোপুরি খরচ করার তাগিদ অন্যতম। এছাড়া সিঙ্গাপুরের ‘টেমাসেক’-এর আদলে একটি সার্বভৌম তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যেখানে সরকারি কোম্পানির অংশীদারি ব্যবহার করে প্রায় ২৪৯ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক মূলধন তোলা সম্ভব।

প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে পারে পরিষেবা খাত। বর্তমানে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ৫৪ শতাংশ হলেও তা বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশে উন্নীত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি-র সংখ্যা বাড়ানো এবং পর্যটন খাতের প্রসার ঘটাতে পারলে ভারত বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। তবে গবেষকদের মতে, ডলারের হিসেবে এই বিশাল অংকের লক্ষ্য ছুঁতে হলে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, সেই সঙ্গে টাকার মানকেও বার্ষিক ৩ থেকে ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *