হু হু করে বাড়ছে হাইড্রোজেন ট্রেনের পরিধি, রেলের মুকুটে নতুন এক মাইলফলক!

ভারতীয় রেল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত মাসেই হরিয়ানায় দেশের প্রথম বাণিজ্যিক হাইড্রোজেন ট্রেনের শুভউদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানে হরিয়ানার জিন্দ এবং সোনিপতের মধ্যে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার রুটে অত্যন্ত সফলভাবে চলাচল করছে এই ট্রেনটি। যাত্রা শুরুর পর থেকে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছাড়াই ট্রেনটি ইতিমধ্যেই ২,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছে। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের পরই এবার হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় রেল।

পরিধি সম্প্রসারণ ও খরচ কমানোর ভাবনা

হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর পাশাপাশি এর জ্বালানি সংগ্রহের খরচ কমানোর বিভিন্ন কৌশল খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পকে দীর্ঘমেয়াদী ও লাভজনক করতে হলে গ্রিন হাইড্রোজেনের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যবাহী ও বিশেষ রুটগুলিতে হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর জন্য নতুন সরবরাহকারীদের যুক্ত করার পাশাপাশি উৎপাদকদের আস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখছে রেল। এই পদক্ষেপ পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে হাইড্রোজেনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করবে।

৩৫টি নতুন হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

বর্তমানে দেশে একটিমাত্র হাইড্রোজেন ট্রেন চালু থাকলেও, রেল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রেলের ঐতিহ্যবাহী রুটগুলিতে পর্যায়ক্রমে মোট ৩৫টি হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু করার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে দেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলির যে সমস্ত দুর্গম রুটে সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়ন করা অত্যন্ত দুরূহ ও ব্যয়বহুল, সেই সমস্ত রুটে এই পরিবেশবান্ধব ট্রেনগুলি যাতায়াতে বিপ্লব আনতে পারে।

কেন্দ্রের মেগা মিশন ও আর্থিক বরাদ্দ

পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্র সরকারও একাধিক জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। ইলেক্ট্রোলাইজার ও গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা বুস্টার দেওয়া হচ্ছে। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন’-এর আওতায় মোট ১৭,৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ভারতকে এই ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী করে তোলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *