‘বন্দে মাতরম’ বয়কট দেশবিরোধী! কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন অমিত শাহ, তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ

জাতীয় সঙ্গীত ও গীত সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে ফের চরম উত্তাপ ছড়াল। ‘বন্দে মাতরম’ গানটি সম্পূর্ণ না গেয়ে নির্দিষ্ট কিছু অংশ গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ‘দেশবিরোধী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে তারা ফের সেই পুরনো তোষণের রাজনীতিকেই উসকে দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস যে ঐতিহাসিক ভুলটি করেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাল তারা। তাঁর মতে, তৎকালীন সেই সিদ্ধান্তের ফলেই একসময় দেশভাগ এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে সেই ঐতিহাসিক ত্রুটি শুধরে নিয়ে জাতীয় গানটিকে সম্পূর্ণভাবে গাওয়ার আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি অনুষ্ঠানে এর পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা সুনিশ্চিত করেছে। কিন্তু বর্তমান কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই ঐতিহ্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর রচনার পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানকেও অপমান করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির এই তীব্র আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে আসরে নেমেছে হাত শিবির। কংগ্রেস সাংসদ কে. সি. ভেনুগোপাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশে বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, সরকারি তহবিলে দুর্নীতি কিংবা সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুতর এবং জ্বলন্ত ইস্যুগুলো থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ধরণের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তাঁরা এই নিয়মে অভ্যস্ত এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে বিজেপি কোনো দিনই সঠিক ধারণা রাখেনি। সব মিলিয়ে, জাতীয় গান অবমাননা ও তোষণের এই অভিযোগে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।