লখনউয়ে শিহরিত করার মতো ঘটনা! ব্যাংকের সামনে স্ত্রীকে গুলি করে খুন, তারপর বোনকে মেরে নিজে আত্মঘাতী স্বামী

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের অভিজাত এলাকা গোমতী নগরে এক হাড়হিম করা ঘটনায় শিউরে উঠেছে পুরো শহর। পারিবারিক বিবাদের জেরে এক দিনে ঝরে গেল তিনটি তাজা প্রাণ। প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রজ্ঞা মিশ্রের বোন তথা একটি বেসরকারি ব্যাংকের রিলেশনশিপ ম্যানেজার দিব্যা মিশ্রকে দিনদুপুরে ব্যাংকের বাইরেই গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মানসের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে খুন করার পর বাড়ি ফিরে নিজের বোনকেও গুলি করে হত্যা করে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং শেষ পর্যন্ত নিজে আত্মঘাতী হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে গোমতী নগর থানার ঠিক পাশেই অবস্থিত আইসিআইসিআই ব্যাংকে নিজের কাজে যোগ দিয়েছিলেন দিব্যা মিশ্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ব্যাংকে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে এবং তাঁকে ব্যাংকের গেটের বাইরে ডেকে পাঠানো হয়। ব্যাংকের বাইরে এসেই তিনি দেখতে পান, অভিযুক্ত স্বামী মানস বাজপাই দুই হাতে পিস্তল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দিব্যা তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই মানস তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে এই নৃশংসতা এখানেই থেমে থাকেনি। ব্যাংকের বাইরে রক্তাক্ত কাণ্ড ঘটিয়ে মানস একটি অটোরিকশায় চেপে হুসাদিয়া স্কোয়ারের নিজের বাসভবনে ফিরে যায়। বাড়িতে প্রবেশ করেই সে তার নিজের বোনকে গুলি করে হত্যা করে। স্ত্রী ও বোনকে পরপর খুন করার পর সে একই অস্ত্র দিয়ে নিজেকেও গুলি করে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই পরিবারের অন্দরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই মানস ও দিব্যার মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চরমে উঠেছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনও করা হয়েছিল। এই তীব্র ক্ষোভ ও রেষারেষির জেরেই স্বামী প্রথমে স্ত্রীকে, পরে নিজের বোনকে এবং অবশেষে নিজের জীবন কেড়ে নেয়।

বিশেষ করে পুলিশ থানার এতটাই কাছাকাছি এলাকায় দিনদুপুরে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। খবর পেয়েই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পুরো এলাকাটি সিল করে দেন। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইল রেকর্ড এবং ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *