ইসলামিক NATO থেকে দূরে মিশর! নেপথ্যে কি তবে মোদীর ভারত? জানুন আসল রহস্য

ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জোরালো চর্চা চলছে তথাকথিত ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বা সম্প্রতি মক্কায় স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তিকে ঘিরে। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলি এই জোটে থাকলেও, আপদমস্তক মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও মিশর এখনও এই চুক্তি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দূরত্ব বজায় রাখার নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে ‘ভারত ফ্যাক্টর’।

ভারত ও মিশরের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব

দিল্লি ও কায়রোর এই গাঢ় বন্ধুত্বের শেকড় বহু পুরানো। ১৯৫৬ সালে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পড়ে যখন সুয়েজ খাল দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন তীব্র বিরোধিতা করে মিশরের অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছিল ভারত। এর ঠিক পাঁচ বছর পর, ১৯৬১ সালে গোয়া মুক্ত করতে যখন ভারতীয় সেনা অভিযান চালায়, তখন পর্তুগিজদের পাঠানো অতিরিক্ত সামরিক সাহায্য যাতে সুয়েজ খাল পার হতে না পারে, তা নিশ্চিত করেছিল মিশর। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু ও গামাল আবদেল নাসেরের হাত ধরে গড়ে ওঠা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM)—দুই দেশের সম্পর্ক বরাবরই সুদৃঢ়। বর্তমানে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ইসলামিক ন্যাটোয় মিশরের গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই সামরিক চুক্তিতে পাকিস্তান বড় ভূমিকা পালন করলেও, আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর দেশ মিশরকে এর পরবর্তী সদস্য করার জোর চেষ্টা চলছে। তুরস্কের দাবি, কায়রো আপাতত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে এবং কিছু আইনি ও টেকনিক্যাল বিষয় মিটলেই তারা যোগ দিতে পারে। সাড়ে চার লক্ষ সেনা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রক হওয়ায় মিশর যোগ দিলে এই জোট অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

তবে মিশরের বিদেশমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির মতে, সাংবিধানিক ও আইনি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভারতের মতো বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক ও বিশ্বাস নষ্ট করতে চায় না কায়রো। একই সঙ্গে সৌদি আরবের কিছু আপত্তি এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্যের খাতিরেই আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে মিশর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *