হোটেলের ভেতর মৃত্যুফাঁদ! ৯ জনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মোদী, কাঠগড়ায় কলকাতা পুরসভার লাইসেন্স ব্যবস্থা?

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে মাঝরাতে লাগা এই বিধ্বংসী আগুনে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ও মহিলারাও রয়েছেন। মৃতরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে কলকাতায় এসেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলাতেই।

শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর শুনে অত্যন্ত মর্মাহত। এই দুর্ঘটনায় যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের সম্ভাব্য সবরকম সহায়তা করছে।”

কী হয়েছিল সেই রাতে?
দমকল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টো নাগাদ হোটেলটিতে আগুন লাগে। মাঝরাতে আবাসিকরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই আগুনের গ্রাসে চলে যায় হোটেলটি। প্রাথমিক তদন্তে দমকল কর্মীদের ধারণা, আগুনের শিখার চেয়েও বিষাক্ত ধোঁয়াই ছিল বেশি প্রাণঘাতী। ধোঁয়ায় দম আটকে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান। এই ঘটনায় গুরুতর জখম আরও ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কাঠগড়ায় হোটেলের পরিকাঠামো
এই অগ্নিকাণ্ডের পরই হোটেলের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নিয়ে উঠেছে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সরু গলি দিয়ে বেরোনোর মূল পথটি তালাবন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কীভাবে এমন একটি জায়গায় ট্রেড লাইসেন্স পেল? শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক হোটেল নিয়ম না মেনেই চলছে।” দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই ঘিঞ্জি এলাকায় হোটেলগুলি কীভাবে অনুমতি পেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হলে হোটেলের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই হোটেল কর্তৃপক্ষকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। গোটা ঘটনার পেছনে কোনো বড়সড় গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *