ওষুধ ছাড়াই সর্দি-কাশি থেকে মিলবে মুক্তি! আদার এই ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানলে আর ডাক্তার লাগবে না

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তাপমাত্রা সামান্য কমলেই ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির প্রকোপ শুরু হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে অনেকেই হাতের কাছে থাকা অ্যান্টি-বায়োটিক বা সিরাপ সেবন করে ফেলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ঘন ঘন ওষুধ সেবনের ফলে শরীর ক্রমশ ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে বাড়িতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা করা কি বেশি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
প্রকৃতির অন্যতম সেরা উপহার ‘আদা’, যাকে প্রায়শই ‘প্রাকৃতিক ব্যথানাশক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার উপশমে আদার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে এই আদা কীভাবে ব্যবহার করলে সেরা ফল মিলবে, তা অনেকেরই অজানা। নিচে রইল আদা দিয়ে তৈরি বিশেষ ৫টি ঘরোয়া প্রতিকার:
১. পোড়া আদা ও বিট নুন
কাশি থেকে তাৎক্ষণিক উপশম পেতে এক টুকরো আদার খোসা ছাড়িয়ে তা হালকা পুড়িয়ে নিন। এরপর তার ওপর সামান্য বিট নুন ছড়িয়ে ধীরে ধীরে চুষে খান। এটি গলা ব্যথা থেকে দ্রুত আরাম দেয়।
২. আদা, হলুদ ও মধুর মিশ্রণ
হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ, মধুর আরামদায়ক বৈশিষ্ট্য এবং আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ক্ষমতা একযোগে সর্দি-কাশি তাড়াতে কার্যকর। এক চা-চামচ মধুতে হাফ চা-চামচ আদার রস এবং এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় সেবন করুন।
৩. আদা-গুড়ের লাড্ডু
গুড় শরীর ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। আদার গুঁড়ো, গুড় ও সামান্য হলুদ মিশিয়ে ছোট ছোট বল বা লাড্ডুর মতো তৈরি করে রাখুন। ওষুধের মতোই নিয়মিত এই লাড্ডু সেবন করলে কাশি জব্দ হবে।
৪. আদা-লেবুর চা
জল ফুটিয়ে তাতে আদার টুকরো দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর তাতে এক চা-চামচ লেবুর রস ও এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করুন। এটি শ্বাসনালীর আরামের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
৫. গোলমরিচ ও আদার ক্বাথ
এক গ্লাস জলে এক ইঞ্চি পরিমাণ আদা ও ৫-৬টি গোলমরিচ দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। জল ফুটে অর্ধেক হয়ে এলে তাতে গুড় বা মধু মিশিয়ে হালকা গরম থাকতেই পান করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে আদা কুচি ফুটিয়ে পান করলেও দারুণ উপকার মেলে।
অযথা রাসায়নিক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো ট্রাই করে দেখুন। তবে সর্দি-কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।