আজম খানের গড়ে তোলা সাম্রাজ্যে ইডির হানা! বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপের অভিযোগে ১০টি স্থানে একযোগে তল্লাশি

সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা আজম খানের মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আজম খানের পরিচালিত ‘মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট’ এবং রামপুরের ‘মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়’ সংক্রান্ত একটি কথিত অর্থ পাচার মামলায় এই কড়া পদক্ষেপ করেছে ইডির লখনউ জোনাল অফিস।

রামপুর, সাহারানপুর ও দিল্লিতে একযোগে তল্লাশি
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (PMLA) ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী রামপুর, সাহারানপুর এবং দিল্লির মোট ১০টি ভিন্ন স্থানে একযোগে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং চুক্তি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যেসকল জায়গায় ইডি আধিকারিকরা অভিযান চালিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে—

মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট, রামপুর

মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়, রামপুর

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দীপক গুপ্তের অফিস ও বাসভবন, সাহারানপুর

মেসার্স এ অ্যান্ড এস এন্টারপ্রাইজেস, রামপুর

সৈয়দ খালিদ (মেসার্স জোহর অ্যাসোসিয়েটসের অংশীদার)-এর ঠিকানা, দিল্লি

মেসার্স সিকে অ্যাসোসিয়েটস, পবন কুমার জৈন এবং শাহীন খানের বিভিন্ন ঠিকানা, রামপুর

ইডির তদন্তে ঠিক কী অভিযোগ উঠে এসেছে?
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, সরকারি বিভিন্ন সরকারি চুক্তি থেকে লাভবান হওয়া বেশ কিছু বেসরকারি ঠিকাদারের হাত ধরে সেই তহবিল ঘুরপথে জোহর ট্রাস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পাচার করা হয়েছিল। ইডির নজরে এসেছে যে, ওই সমস্ত ঠিকাদার এবং জোহর ট্রাস্টের মধ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

সংস্থার সন্দেহ, সরকারি চুক্তি থেকে পাওয়া সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন জটিল চ্যানেলের মাধ্যমে ঘুরিয়ে ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সম্পত্তি নির্মাণসহ নানা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক তদন্তে বড় অঙ্কের অনুদান এবং নানা নির্মাণ প্রকল্প সংক্রান্ত বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে।

কী খুঁজছেন তদন্তকারীরা?
রামপুর, সাহারানপুর এবং দিল্লির ওই ১০টি নির্দিষ্ট ঠিকানায় হানা দিয়ে ইডির দল বিভিন্ন আর্থিক নথি, চুক্তিপত্র, অ্যাকাউন্ট বুক এবং ডিজিটাল প্রমাণপত্র খুঁটিয়ে দেখছে। সরকারি তহবিল কীভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ ঠিক কোথায় ও কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো পুরো অর্থপ্রবাহের (Flow of Funds) উৎস খুঁজে বের করা। তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ আগামী দিনে এই মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি তহবিলের এই বিশাল জালিয়াতির নেপথ্যে ঠিক কারা জড়িত ছিল এবং পুরো নেটওয়ার্কটি কীভাবে কাজ করত, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *