১৯ কোটির বেশি দাম, ৮৫০ হর্সপাওয়ারের ভিভি১২ ইঞ্জিন! অ্যাস্টন মার্টিনের এই সুপারকার দেখলে চোখ কপালে উঠবে

অ্যাস্টন মার্টিন মন্টেরি কার উইক ২০২৬-এ তাদের একদম নতুন এবং তাক লাগানো সুপারকার ‘ভ্যালেন্ট’ (Valiant) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। ব্রিটিশ এই বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এটিই এখন পর্যন্ত তাদের তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রন্ট-ইঞ্জিন প্রোডাকশন কার। ভ্যানকুইশ মডেল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই সুপারকারে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৫.২-লিটার টুইন-টার্বো ভি১২ ইঞ্জিন, যা থেকে উৎপন্ন হয় অবিশ্বাস্য ৮৫০ হর্সপাওয়ার এবং ১,০০০ নিউটন-মিটার টর্ক। বিশ্বজুড়ে এই গাড়ির মাত্র ১৫০টি ইউনিট তৈরি করা হবে, যার প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৯.৪৬ কোটি টাকার সমান)।
৮৫০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী ভি১২ ইঞ্জিন
নতুন এই অ্যাস্টন মার্টিন ভ্যালেন্ট-এ ভ্যানকুইশ-এর মতোই ৫.২-লিটার টুইন-টার্বো ভি১২ ইঞ্জিন রাখা হয়েছে, তবে এর পারফরম্যান্স আরও বাড়িয়ে শক্তি করা হয়েছে ৮৫০ হর্সপাওয়ার। এটি সাধারণ ভ্যানকুইশ-এর তুলনায় ১৫ হর্সপাওয়ার বেশি শক্তিশালী। ইঞ্জিনের এই বিপুল শক্তি একটি ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্সের মাধ্যমে পেছনের চাকায় সঞ্চারিত হয়। এর গিয়ারবক্সের সফটওয়্যারটি ভ্যান্টেজ জিটি৪ রেস কারের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে গাড়িটি মাত্র ৩.১ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ গতি ৩৪৫ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে।
কম ওজন ও আক্রমণাত্মক ডিজাইন
স্ট্যান্ডার্ড ভ্যানকুইশ-এর তুলনায় এই গাড়ির ওজন প্রায় ১১০ কিলোগ্রাম কমানো হয়েছে। ওজন কমানোর এই প্রক্রিয়ায় কার্বন ফাইবার, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো অত্যন্ত হালকা ও টেকসই উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির প্রকৌশলীরা গাড়ির ইএসপি, থ্রটল, ব্রেকিং এবং স্টিয়ারিং সিস্টেমেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। এর সাসপেনশনে ব্যবহার করা হয়েছে আরও শক্ত স্প্রিং, যা কর্নারিং বা বাঁক নেওয়ার সময় গাড়ির বডি রোল বা হেলে পড়া কমাতে সাহায্য করে এবং চালকের প্রতিটি ইশারায় গাড়িটিকে দ্রুত সাড়া দিতে উদ্বুদ্ধ করে। এর এক্সটেরিওর ডিজাইনও প্রচলিত অ্যাস্টন মার্টিন মডেলগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও অ্যারোডাইনামিক।
বিশেষ চাকা এবং উন্নত বায়ুগতিবিদ্যা
ভ্যালেন্ট সুপারকারটিতে রয়েছে হালকা ম্যাগনেসিয়ামের তৈরি বিশেষ চাকা, যাতে লাগানো হয়েছে প্রিমিয়াম পিরেলি পি জিরো আর (Pirelli P Zero R) টায়ার। এর সামনের চাকার মাপ ২৭৫/৩৫ জেডআর২১ এবং পেছনের চাকা ৩২৫/৩০ জেডআর২১। এতে যুক্ত করা হয়েছে পিরেলির আধুনিক ‘সাইবারটায়ার’ প্রযুক্তি, যা রিয়েল টাইমে গাড়ির ডাইনামিক কন্ট্রোল সিস্টেমের সঙ্গে টায়ার সংক্রান্ত সমস্ত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।
গাড়ির পেছনের অংশে চিরাচরিত উইন্ডস্ক্রিনের পরিবর্তে একটি নিরেট টেইলগেট বসানো হয়েছে, যা খুললে পাওয়া যায় ১৭০ লিটারের বুট স্পেস। টেইলগেটের ওপর থাকা একটি অ্যারোডাইনামিক উইং গাড়ির ড্র্যাগ বা বায়ুর বাধা কমিয়ে ডাউনফোর্স তৈরি করতে সাহায্য করে। এর নিচে রয়েছে একটি পাতলা এলইডি টেইললাইট বার এবং থ্রিডি-প্রিন্টেড চারটি টাইটানিয়ামের এক্সহস্ট পাইপ। গ্রাহকদের জন্য অ্যাস্টন মার্টিনের ‘কিউ পার্সোনালাইজেশন’ বিভাগে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত কার্বন ফাইবারের এক্সটেরিয়র বেছে নেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে।
বিলাসবহুল কেবিন ও প্রিমিয়াম ফিচার
গাড়ির কেবিন বা অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ভ্যানকুইশ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এতে বেশ কিছু আকর্ষণীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভেতরে রয়েছে একটি ১০.২৫-ইঞ্চি ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং একটি ১০.২৫-ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম। সেন্টার কনসোলটি থ্রিডি প্রিন্টেড এবং এতে রয়েছে পুশ-বাটন স্টার্ট/স্টপ সুইচ ও এয়ারক্রাফট-স্টাইলের ড্রাইভ মোড সিলেক্টর।
ক্রেতারা চাইলে স্পোর্ট প্লাস সিট অথবা কার্বন-ফাইবারের হাই-পারফরম্যান্স সিট বেছে নিতে পারেন। বিনোদনের জন্য এতে দেওয়া হয়েছে ১৫-স্পিকারের প্রিমিয়াম বোয়ার্স অ্যান্ড উইলকিন্স অডিও সিস্টেম। সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রয়েছে ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, ডিজিটাল ইনসাইড রিয়ার-ভিউ মিরর, পাওয়ার-অপারেটেড স্টিয়ারিং কলাম এবং ওয়্যারলেস ফোন চার্জার।
১৯.৪৬ কোটি টাকা মূল্যে মাত্র ১৫০টি ইউনিট
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাস্টন মার্টিন ভ্যালেন্ট-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যার সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো কাস্টমাইজেশন বা ঐচ্ছিক ফিচারের খরচ যুক্ত নেই। এই বিশেষ মডেলটির মাত্র ১৫০টি ইউনিট বিশ্ববাজারে ছাড়া হবে, যা সম্পূর্ণভাবে সংস্থার ‘কিউ’ পার্সোনালাইজেশন বিভাগ দ্বারা ডিজাইন করা হবে। ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক থেকে এই সুপারকারের ডেলিভারি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ৮৫০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী ইঞ্জিন, হালকা ওজন এবং নজরকাড়া লুকের সুবাদে ভ্যালেন্টকে ব্র্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে দেখা হচ্ছে।