মুম্বইয়ের রাস্তায় বিদেশির সাহায্য করতেই তুলকালাম! প্রতিবন্ধীকে টাকা দেওয়া নিয়ে এ কোন ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল?

প্রতিদিনই সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা উলটালে কোনো না কোনো ভিডিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কিন্তু সম্প্রতি মুম্বইয়ের রাস্তা থেকে সামনে আসা একটি ঘটনা নেটপাড়ায় গভীর ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। একজন বিদেশি ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার যখন রাস্তার পাশে বসে থাকা এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান, ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত এক স্থানীয় মহিলা তার এই পরোপকার নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। এরপর যা ঘটেছে, তা নিয়ে ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া নিয়ে আপত্তি
জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ‘ক্রিস ট্র্যাভেলস’-এর শেয়ার করা ওই ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভ্লগার মুম্বইয়ের একটি ব্যস্ত রাস্তায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০০ টাকা সাহায্য করছেন। বিদেশি ওই ইনফ্লুয়েন্সারের মনে হয়েছিল যে লোকটির সত্যিই চরম সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই এক পথচারী মহিলা ইংরেজিতে ভ্লগারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে টাকা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুধু তাই নয়, ওই মহিলা দাবি করেন যে তিনি নিজেও একজন প্রতিবন্ধী। এরপর নিজের ওষুধপত্র ও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে তিনি দাবি করতে থাকেন যে, তাঁর নিজেরই চিকিৎসা সহায়তা এবং খাবারের প্রয়োজন।
‘আমার পোলিও আছে…’
মহিলার তীব্র আপত্তির পর ভ্লগার নিজে ওই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। জবাবে ওই ব্যক্তি জানান যে তাঁর পোলিও রয়েছে, যার কারণে তাঁর স্বাভাবিক চলাফেরায় মারাত্মক অসুবিধা হয়। তবে ওই মহিলা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন যে, ওই ব্যক্তি প্রতিদিন একই জায়গায় বসে ভিক্ষা করেন এবং অনুদান হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন।
মহিলার আপত্তি উড়িয়ে ফের দান বিদেশির
মহিলার এত সব অভিযোগ সত্ত্বেও বিদেশি ওই লোকটি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। লোকটির শোচনীয় শারীরিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি মহিলাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ওর অবস্থাটা দেখুন।” তিনি মহিলাটিকে এও বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি যদি নিজে একই রকম দুর্দশার মধ্যে পড়তেন, তবে তিনি অবশ্যই সাহায্যপ্রার্থীর পাশে দাঁড়াতেন।
তর্কাতর্কি চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও বিদেশি ভ্লগার নিজের অবস্থানে অটল থাকেন এবং ওই প্রতিবন্ধী লোকটিকে আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেন। এর ফলে তাঁর মোট দানের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০০ টাকায়।
ভিডিওটি শেয়ার করে ক্রিস লিখেছেন যে, মুম্বইয়ে ওই ব্যক্তিকে দেখার পর তাঁর মনে হয়েছিল তাঁর সাহায্যের গভীর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দর্শকদের কাছেও জানতে চেয়েছেন যে, তাঁরা যদি ওই একই পরিস্থিতিতে পড়তেন, তবে ঠিক কী করতেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরা এই ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত প্রকাশ করছেন—কেউ ওই বিদেশির মানবিকতার অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন, আবার অনেকেই শহরাঞ্চলে ভিক্ষাবৃত্তির এই রূঢ় বাস্তবতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু করেছেন।