ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়! আপত্তিকর কনটেন্ট সরাতে কড়া নির্দেশ দিল্লি পুলিশের!

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর, বিদ্বেষমূলক ও অবমাননাকর পোস্ট করার অভিযোগে এবার আসরে নামল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। শুধুমাত্র রাজধানী দিল্লি বলে নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবমাননাকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের ধরে ধরে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
এক্স (X)-কে কড়া নির্দেশ ও তথ্য তলব
এই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (পূর্বে টুইটার)-কেও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্ল্যাটফর্মে যদি এই ধরনের কোনো অবমাননাকর পোস্ট বা ভিডিও থেকে থাকে, তবে তা অবিলম্বে ডিলিট বা অপসারণ করতে হবে।
পাশাপাশি, যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকে এই ধরনের গালিগালাজ বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে পোস্ট করা হয়েছে, সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের সম্পূর্ণ তথ্য চেয়েছে পুলিশ।
কী কী তথ্য চেয়েছে পুলিশ?
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ যে সমস্ত তথ্য তলব করেছে তার মধ্যে রয়েছে:
অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম ও ঠিকানা
যোগাযোগের ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি
নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সহ লগ ইন এবং লগ আউট রেকর্ড
প্ল্যাটফর্মের কাছে থাকা যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত তথ্য
এছাড়াও, ইলেকট্রনিক রেকর্ড সংক্রান্ত ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মের ৬৩(৪) ধারার অধীনে একটি নির্দিষ্ট সার্টিফিকেটও জমা দিতে বলা হয়েছে এক্স কর্তৃপক্ষকে। সমস্ত ডিজিটাল তথ্য যাতে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের পরিধি ও পাকিস্তানের যোগ
এখনও পর্যন্ত ঠিক কতগুলি অ্যাকাউন্টকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে সিজেপির নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত সমস্ত পোস্ট, ভিডিও এবং কমেন্টের অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে।
এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল যে, ইতিমধ্যেই ৪০০-রও বেশি এমন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলি পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত বা সম্পর্কিত। অভিযোগ রয়েছে, এই হ্যান্ডেলগুলি ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে বিভিন্ন মিথ্যা প্রচার এবং ডিপফেক ভিডিও শেয়ার করছিল। সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলির ওপরেও এখন সাইবার ক্রাইম শাখার বিশেষ নজরদারি রয়েছে।