“এক সপ্তাহের মধ্যে বড় কান্ড ঘটবে!” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক ইঙ্গিতে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে!

তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের রাজনৈতিক রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বড়সড় প্রতিশোধ বা পাল্টা পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত দিলেন দলের প্রবীণ সাংসদ তথা অভিজ্ঞ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বড় কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে।” যদিও ঠিক কী ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, সে বিষয়ে তিনি এখনই মুখ খুলতে চাননি।
দলত্যাগ বিরোধী আইন ও সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাবনা
বর্তমানে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং বিক্ষুব্ধ হিসেবে পরিচিত প্রায় ২০ জন সাংসদকে এখনও বাধ্য হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়েই সংসদে যোগ দিতে হচ্ছে। কারণ, নতুন দল ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-কে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা মান্যতা দেননি। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়েই সম্প্রতি এনডিএ-র বৈঠকে তৃণমূলের নাম ভাঙিয়েই যোগ দিতে হয়েছিল ওই ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে।
তবে স্পিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই এই বিষয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই আইনি লড়াইয়ের জোরালো ইঙ্গিতই দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত বলে দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও নাকি আবেদন জানিয়েছেন কল্যাণ। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে সবুজ সঙ্কেত মিললেই এনসিপিআই-এর বৈধতা এবং ওই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) কার্যকর করার দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হতে পারে।
এনডিএ বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি
এদিকে, প্রথম বৈঠকে ডাক না পেলেও এনডিএ-র পরবর্তী বৈঠকে মোদীর পাশেই দেখা গিয়েছে তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এনডিএ-র দ্বিতীয় বৈঠকে নবগঠিত এনসিপিআই-এর সাংসদরা যোগ দেওয়ায়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এসে তাঁদের বাকি সাংসদদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। একদিকে সংসদে মোদীর সান্নিধ্যে বিদ্রোহী সাংসদদের উপস্থিতি এবং অন্যদিকে তৃণমূলের আইনি ও রাজনৈতিক পালটা প্রস্তুতির জেরে আগামী দিনে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো রাজনৈতিক সংঘাত যে অনিবার্য, তা বলাই বাহুল্য।