CPIM-র শেষ পলিটব্যুরো সদস্য গ্রেফতার! অমিত শাহের ‘নকশালমুক্ত ভারত’ কি এবার সম্পূর্ণ সফল?

২০২৬ সালের মে মাসে ছত্তীসগঢ় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, “ভারত এখন নকশালমুক্ত।” সেই ঘোষণার মাত্র দুই মাসের মাথায়, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত ও সক্রিয় সদস্য মিসির বেসরা ওরফে ভাস্কর।

গত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে রক্তক্ষয়ী গেরিলা যুদ্ধ, ভাঙন এবং সংসদীয় রাজনীতির নানা পথ অতিক্রম করা নকশালবাদের শিকড় পুরোপুরি সমূলে উৎপাটিত হলো কি না তা সময় বলবে। তবে সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ তাত্ত্বিক ও কমান্ডিং নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর অমিত শাহের ‘নকশালমুক্ত ভারতের’ দাবিতে এক নতুন পালক যুক্ত হলো বলা যায়।

১ কোটির ইনাম ও শেষ জীবিত পলিটব্যুরো সদস্যের পতন
মাথার ওপর ১ কোটি টাকার ইনাম থাকা মিসির বেসরা এমন একজন নেতা ছিলেন, যিনি একদম আত্মগোপনে থেকেও দলের তাত্ত্বিক লাইনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। গত এক দশক ধরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পরিকল্পিত নকশালবিরোধী অভিযানে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা ও তেলেঙ্গানায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন মাওবাদীরা। একের পর এক শীর্ষ নেতা নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত হন অথবা আত্মসমর্পণ করেন।

এক নজরে মিসির বেসরার শেষ লড়াই:

সেপ্টেম্বর ২০২৫: পলিটব্যুরো সদস্য সংখ্যা কমে মাত্র ২ জনে ঠেকে।

নভেম্বর ২০২৫: অপর সদস্য তিরিপ্পি তিরুপতি ওরফে দেবুজি আত্মসমর্পণ করলে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন মিসির।

দক্ষিণের লাইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: দেবুজির আত্মসমর্পণের পর দলের বিরুদ্ধে মাওয়ের উক্তি উদ্ধৃত করে আত্মগোপন থেকেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার দেন মিসির।

জুলাই ২০২৬: ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের সীমানায় নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির পর মঙ্গলবার রাতে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁকেই গ্রেফতার করে।

জেল থেকে নিজেকেই ছিনতাইয়ের কারিগর: ‘অপারেশন লখিসরাই কোর্ট’
ধানবাদের ভূমিপুত্র মিসির বেসরা কলেজ জীবনে মহাজনবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে মাওবাদী দলে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তত্ত্ব ও বাস্তব রণকৌশলে পারদর্শী হয়ে দলের শীর্ষে ওঠেন। ২০০৭ সালে বিহারে প্রথমবার গ্রেফতার হলেও ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে নিজেই জেলে বসে পরিকল্পনা করা ‘অপারেশন লখিসরাই কোর্ট’-এর মাধ্যমে মাওবাদী ক্যাডারদের দিয়ে পুলিশ থেকে নিজেকে ছিনতাই করিয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে পড়েন।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘মিসিং’ থাকা এই শীর্ষ নেতার পতনের সাথে সাথেই ভারতের সবচেয়ে প্রবীণ মাওবাদী সশস্ত্র নেটওয়ার্কের শীর্ষ নেতৃত্বের ইতি ঘটল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *