“কলকাতায় তো হাসপাতাল আছে, বিদেশে কেন?” হাইকোর্টের প্রশ্নের পর শীর্ষ আদালতের দরবারে সুপ্রিম লড়াইয়ে অভিষেক

কলকাতা হাইকোর্টে বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ হওয়ার পর এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ অভিষেকের বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর আবেদনটি নাকচ করে দেয়। সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে না গিয়ে, তিনি সরাসরি শীর্ষ আদালতে বিশেষ অনুমতিমূলক আবেদন (SLP) জানিয়েছেন। আগামী ৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন? দূর্ঘটনার পুরনো স্মৃতি
২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুর্শিদাবাদ থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে হুগলির সিঙ্গুরের কাছে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল অভিষেকের গাড়ি। ওই দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ চোখের নিচের হাড় ভেঙে গুরুতর আঘাত লাগে।

সেই থেকে গত কয়েক বছর ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ইতিপূর্বে তাঁর চোখে একাধিকবার অস্ত্রোপচারও হয়েছে। এর আগে চিকিৎসার জন্য তিনি হায়দরাবাদ, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও (USA) গিয়েছেন।

হাইকোর্টে কী ঘটেছিল? বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
সম্প্রতি চোখের চিকিৎসার জন্য ফের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। কিন্তু শুনানিশেষে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

এসএসকেএম-এ চিকিৎসার পরামর্শ: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “কলকাতাতেই তো একাধিক উন্নতমানের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। তাহলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে কেন?” প্রয়োজন হলে রাজ্য পরিচালিত এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক রিপোর্টের নির্দেশ: আদালত নির্দেশ দেয় যে, অভিষেক আগে এসএসকেএম হাসপাতালে চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট জমা দিক। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বিদেশযাত্রার বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে।

এই নির্দেশিকার ফলে আগামী অন্তত দু’মাস অভিষেকের বিদেশে যাওয়া আটকে যায়। যদিও আদালত তদন্ত সংক্রান্ত মামলায় তাঁর আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।

সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের যুক্তি
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। তবে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ না মেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান।

আবেদনে অভিষেকের যুক্তি: তিনি আদালতের সমস্ত নির্দেশ মেনে তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। ডিজে মামলায় সিআইডি দপ্তর ভবানী ভবনে গিয়ে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিয়েছেন। সুতরাং তদন্তে সহযোগিতার সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও তাঁকে চিকিৎসার মতো জরুরি কারণে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এখন দেখার, আগামী ৩ আগস্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *