“তুতো ভাই-ই আমাকে…” ‘লক আপ ২’-এর মঞ্চে কান কান্নায় ভেঙে পড়লেন শ্রেয়া! সত্য প্রকাশ্যে চরম তোলপাড়

গ্ল্যামার, জনপ্রিয়তা আর রুপোলি পর্দার চকমকানি—সবকিছুর আড়ালেই যে লুকিয়ে থাকতে পারে এক বিভীষিকাময় অতীত, তার এক নির্মম সত্য প্রকাশ্যে এল। এমটিভি রোডিজ খ্যাত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রেয়া কালরা রিয়েলিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রকাশ করলেন নিজের জীবনের সবথেকে বড় গোপন ও যন্ত্রণাদায়ক সত্য, যা শুনে হতবাক হয়ে গেছেন সহ-প্রতিযোগী থেকে শুরু করে দর্শকরাও।

‘ওন ইওর সিক্রেট উইক’-এ বিস্ফোরক উন্মোচন
শো-এর বিশেষ ‘ওন ইওর সিক্রেট’ পর্বে সহ-প্রতিযোগী আকাঙ্ক্ষা চৌধুরীর এক প্রশ্নের মুখে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শ্রেয়া। নিজেকে সামলে নিয়ে কাঁপা গলায় তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম এই সত্যটা সারা জীবন গোপন রাখতে, যাতে আমার পরিবার ভেঙে না পড়ে। কিন্তু আর চেপে রাখতে পারলাম না।”

১৩ বছর বয়সে নিজের বাড়িতেই শিকার যৌন নির্যাতনের
নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া জানান,

“আমার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, দাদুর বাড়িতে পরিবারের সবাই যখন হল ঘরে একসঙ্গে ঘুমাতাম, তখনই এক রাতে আমার এক তুতো ভাই আমার ওপর চড়াও হয়। সে আমাকে জোর করে টেনে ধরত। তখন অবুঝ কিশোরী হিসেবে আমি বুঝতেই পারিনি আসলে আমার সাথে কী ঘটছে। একমাত্র ঋষভ (জয়সওয়াল) ছাড়া এই ভয়ঙ্কর সত্যটা এতদিন আর কেউ জানত না।”

পরিবারের ভাঙন আর অপরাধবোধের ভয়
শ্রেয়া জানান, তিনি কোনো সহানুভূতি চান না, তবে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন তাঁর মায়ের জন্য। কারণ, ওই তুতো ভাইয়ের মা মারা যাওয়ার পর শ্রেয়ার মা-ই নিজের হাতে তাঁকে তিন বছর লালন-পালন করে বড় করেছিলেন।

পাশাপাশি, আগামী নভেম্বরে শ্রেয়ার নিজের ভাইয়ের বিয়ে। অতীতে গ্ল্যামার জগতের কিছু বিতর্কের কারণে তাঁর ভাইয়ের একটি এনগেজমেন্ট ভেঙে গিয়েছিল। তাই শ্রেয়া আতঙ্কে ছিলেন—তাঁর এই অতীত যেন ফের তাঁর ভাইয়ের নতুন জীবনকে প্রভাবিত না করে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি যোগ করেন,

“আমি সবাইকে নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করার কথা বলি, অথচ আমি নিজে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারিনি। আজও ওই ভাইয়ের বিয়েতে পরিবারের সঙ্গে আমাকে হাসিমুখে যেতে হয়। আজ মা যদি টিভিতে এই সত্যিটা দেখেন, তিনি হয়তো আর সহ্য করতে পারবেন না…”

ইন্দোরের মেয়ে শ্রেয়া কালরা নিজের নাচ ও ফ্যাশন দিয়ে কোটি কোটি ভক্তের মন জয় করলেও, রূপোলি পর্দার আলোর আড়ালে থাকা তাঁর এই কান্না আজ সমাজ ও পারিবারিক সুরক্ষার মুখোশটাকে আরও একবার টেনে খুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *