‘ভাল কাজে বাধা দিচ্ছে সরকার’,-সেবাশ্রয় নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক ব্যানার্জি

একদিকে দেশের রাজধানী দিল্লির লোকসভা ভবন, তো অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘এক্স’ (টুইটার)— একইদিনে কেন্দ্র ও রাজ্য শাসকদলের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী অলআউট আক্রমণে নামলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী শিবিরের পুলিশি পদক্ষেপ, এফআইআর (FIR) ও আইনি ভয় দেখানোর রাজনীতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— কোনো চাপের মুখেই তিনি পিছু হঠবেন না।

“আমার বিরুদ্ধে FIR করতেই ব্যস্ত নতুন সরকার”

বুধবার নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে রাজ্য বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগের সুরে অভিষেক লেখেন— ক্ষমতায় আসার পর থেকে নতুন বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা কিংবা জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির (যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা আয়ুষ্মান ভারত) দিকে নজর না দিয়ে কেবল তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআর করতে ব্যস্ত।

বিজেপিকে অভিষেকের খোঁচা: > “ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ হিসেবে আমি স্বাস্থ্যসেবা, নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কোভিডকালে জরুরি পরিষেবা কিংবা রাস্তাঘাট নির্মাণের মতো যেসব জনকল্যাণমূলক কাজ করেছি— সেগুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে। তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার যে দেশের ও সমাজের এই ধরনের ভাল কাজের এতটা বিরোধী হতে পারে, তা ভাবাই যায় না।”

“আমাকে থামানো যাবে না, যা করার করুন!”

বিরোধী শিবির ও সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে অভিষেক জানান, নিত্যনতুন মামলা বা আইনি চাপ তৈরির মাধ্যমে তাঁকে ভয় পাইয়ে থামানো সম্ভব নয়।

তিনি স্পষ্ট জানান:

  • জনসেবা অব্যাহত থাকবে: পুলিশ বা আদালতের মাধ্যমে ভয় দেখানোর কৌশলে তিনি বিন্দুমাত্র চালিত হবেন না।

  • দায়বদ্ধতা জনগণের প্রতি: ডায়মন্ড হারবার তথা সাধারণ মানুষ তাঁকে যে কাজের জন্য নির্বাচিত করেছেন, তিনি সেই পথেই অবিচল থাকবেন এবং বিজেপি যতখুশি চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।

নিট ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে লোকসভাতেও তীব্র আক্রমণ

কেবল সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, মঙ্গলবার লোকসভাতেও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদ। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা বিলে সমর্থন জানালেও মোদী সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় সরব হন তিনি।

লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময়ে অভিষেকের কটাক্ষ— “কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই আগে শিক্ষা ব্যবস্থায় আগুন লাগিয়েছে, আর এখন সেই আগুন নেভাতে এক বালতি জল নিয়ে হাজির হয়েছে! এর জন্য কোনো বাহবা পাওয়ার জায়গা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, কেবল নতুন আইন পাস করলেই এতদিন ধরে দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মেধা নিয়ে হওয়া ছিনিমিনি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *