“উমরাও জান আজও আমার অস্তিত্বে বেঁচে আছে…” চার দশক পর রেখার আবেগঘন স্বীকারোক্তি!

সময় গড়িয়েছে চার দশকেরও বেশি। প্রেক্ষাগৃহে বদলেছে সিনেমার ধারা, বদলেছে প্রজন্ম। কিন্তু ‘উমরাও জান’ যেন আজও একই রকম উজ্জ্বল বলিউডের কালজয়ী অভিনেত্রী রেখার জীবনে। ১৯৮১ সালে তৈরি মুজাফ্ফর আলির এই আইকনিক সৃষ্টিকে ঘিরে আজও রেখার মনে জমা রয়েছে গভীর অনুভূতি।
“সে কেবল চরিত্র নয়, আমার অস্তিত্বের অংশ”
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (IFFM) ২০২৬-এর বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণার পর ‘উমরাও জান’ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন রেখা। আবেগঘন কণ্ঠে অভিনেত্রী বলেন,
“উমরাও জান কখনও আমাকে ছেড়ে যায়নি। সে আজও আমার স্মৃতি, আমার নীরবতা আর আমার অস্তিত্বের মধ্যে বেঁচে আছে। এই চরিত্রটি আমাকে শুধু অভিনয় শেখায়নি, জীবনের গভীর অনুভূতি, বেদনা ও সৌন্দর্যকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে।”
IFFM ২০২৬-এ ইতিহাস তৈরি করবেন রেখা
মেলবোর্নের এই ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হতে চলেছে ‘উমরাও জান’। তবে উৎসবের আকর্ষণ শুধু সিনেমার পর্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড: ভারতীয় চলচ্চিত্রে অনবদ্য অবদানের জন্য রেখাকে সম্মানজনক ‘Excellence in Cinema Award’-এ ভূষিত করা হবে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন: ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মেলবোর্নে আয়োজিত বিশেষ ভারতীয় উৎসবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দায়িত্বও থাকবে রেখার ওপর।
জাতীয় পুরস্কার ও একটি কালজয়ী সৃষ্টি
মির্জা হাদি রুসওয়ার বিখ্যাত উর্দু উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল ‘উমরাও জান’। এক লখনউই তবায়িফ ও কবি উমরাও জানের চরিত্রটিতে রেখার অনবদ্য রূপায়ণ তাঁকে এনে দিয়েছিল শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। চার দশক পার করেও রেখার সেই চোখের এক্সপ্রেশন, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর নাচ আর নিখুঁত অভিনয় চলচ্চিত্র প্রেমীদের হৃদয়ে আজও অমলিন। Melbourne-এর মঞ্চে রেখার এই প্রত্যাবর্তন তাই ভারতীয় সিনেমার এক সোনালি অধ্যায়কে উদযাপনের সাক্ষী হতে চলেছে।