মুম্বাই লোকালের ফার্স্ট ক্লাসে রক্তগঙ্গা! ট্রেনের দরজা বন্ধ করা নিয়ে সামান্য বচসা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যেভাবে খুনির মুখোশ টানল পুলিশ

মুম্বাইয়ের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত লোকাল ট্রেনের ভেতরেই ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। ট্রেনের দরজা বন্ধ করা নিয়ে দুই যাত্রীর মধ্যে সামান্য বচসা যে এমন এক রক্তক্ষয়ী রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি সহযাত্রীরা। এই ভয়াবহ ঘটনায় এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অন্ধকূপ রহস্যের সমাধান করেছে রেল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্তকে।
তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে আজ বোরিভালি আদালতে হাজির করা হলে, বিচারক তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনাটি ঘটে গত ২৩শে জুন, ২০২৬ তারিখ রাতে। নালাসোপারা ফাস্ট লোকাল ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর (First Class) কামরায় ফিরছিলেন যাত্রীরা। ট্রেনটি যখন তীব্র গতিতে ছুটছিল, ঠিক তখনই কামরার দরজা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে দুই যাত্রীর মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। আচমকাই বিতর্কের পারদ চড়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপর যাত্রীর ওপর মারাত্মক ও নৃশংসভাবে চড়াও হয়। মারধরের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ওই যাত্রীর মৃত্যু হয়। চলন্ত ট্রেনের কামরায় এমন নৃশংসতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান অন্য যাত্রীরা।
খুনিকে ধরতে নামানো হলো ৪০০ সিসিটিভি ও ৭টি স্পেশাল টিম
ঘটনার পর বোরিভালি রেলওয়ে পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনে এমন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জেরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পশ্চিমাঞ্চল এবং রেলওয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের শীর্ষ কর্তারা তড়িঘড়ি ৭টি বিশেষ দল (Special Teams) গঠন করেন।
তদন্তকারী অফিসাররা বোরিভালি, আন্ধেরি, মিরা রোড এবং নালাসোপারা সহ রুটের বিভিন্ন রেলস্টেশনের ৪০০টিরও বেশি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ দিন-রাত এক করে খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। অবশেষে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ জানতে পারে যে খুনি নভি মুম্বাই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে। সেই সূত্র ধরে পানভেল এলাকা থেকে মীরা রোডের বাসিন্দা অভিযুক্ত রোশন (৩০)-কে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। দফায় দফায় জেরা করার পর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তার সমস্ত প্রতিরোধ, পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে।
কোনো পুরোনো শত্রুতা ছিল না!
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত ব্যক্তি এবং ধৃত রোশনের মধ্যে আগে থেকে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা, রেষারেষি বা পূর্বপরিচিতি ছিল না। স্রেফ ট্রেনের দরজা খোলা-বন্ধ করা নিয়ে মুহূর্তের উত্তেজনার বশেই এই জঘন্য অপরাধটি ঘটিয়ে ফেলে রোশন।
রেলওয়ে পুলিশ এখন মামলার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে। মুম্বাইয়ের নিত্যযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন পুলিশ জানার চেষ্টা করছে কীভাবে একটি সাধারণ ঘরের যুবক লোকাল ট্রেনের সামান্য বচসায় এমন পেশাদার অপরাধীর মতো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল।