১২ লক্ষ টাকা না থাকলে কি বিয়ে করাই পাপ? সোশ্যাল মিডিয়ার এই ভাইরাল দাবিতে ধুন্ধুমার!

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজকাল কত কিছুই না ভাইরাল হয়। বিয়ে, টাকা-পয়সা এবং সম্পর্কের অগ্রাধিকার নিয়ে নানা মতবিরোধ লেগেই থাকে। তবে এবার এক এক্স (প্রাক্তন টুইটার) ব্যবহারকারীর একটি পোস্ট এই সমস্ত বিতর্ককে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ওই ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, যে সমস্ত পুরুষের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার কম, তাদের নাকি বিয়ের কথা চিন্তাই করা উচিত নয়! আর এই একটিমাত্র মন্তব্যেই ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে চরম বাকযুদ্ধ। আর্থিক স্থিতিশীলতা বনাম পারস্পরিক ভালোবাসার এই দ্বন্দ্বে এখন দুভাগে বিভক্ত নেটিজেনরা।

ভালোবাসার চেয়েও কি টাকা বেশি দামি?
ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, কেবল আবেগ বা ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে সংসার টিকে থাকে না। এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তপোক্ত আর্থিক ভিত্তি। কম আয় হলে তা পরবর্তী জীবনে জীবনসঙ্গীর জন্য চরম আর্থিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পুরুষদের আগে ক্যারিয়ার গড়া, নিজের আয় বাড়ানো এবং বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকার মাইলফলকে পৌঁছানোর পরেই কেবল বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেটিজেনদের মধ্যে মতের অমিল
এই অদ্ভুত দাবি সামনে আসতেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে অনলাইন দুনিয়ায়। অনেকেই একে নিছক লাইক-কমেন্টস পাওয়ার ফন্দি বা ‘রেজ বেইটিং’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী তো সোজাসুজি প্রশ্ন তুলেছেন, “আপনি কি তার উপার্জন উপভোগ করবেন?” আবার অন্য একজন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “এর মানে কি এই যে আপনার ভাই বা সঙ্গী জন্মের পরেই মাসে এক লক্ষ টাকা আয় করতে শুরু করেছিল?”

তবে এর বিপরীতে অনেকেই পালটা যুক্তিও দিয়েছেন। নিজের উদাহরণ টেনে এক নেটিজেন লিখেছেন, “বিয়ের সময় আমার আয় বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। কিন্তু একটা সফল ও সুখী দাম্পত্যের জন্য টাকার অঙ্কের চেয়ে মানসিক শান্তি ও বোঝাপড়া অনেক বেশি জরুরি। বিত্তশালীদের মধ্যেও তো বিবাহবিচ্ছেদের হার কম নয়।” সবমিলিয়ে, বিয়ের মতো একটি পবিত্র বন্ধনকে আর্থিক মাপকাঠিতে মাপা উচিত কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোরদার জল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *