বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে মারাত্মক ইবোলা! এবার ভারতের বিমানবন্দরে জারি নতুন কড়া নিয়ম, বিদেশ যাওয়ার আগে না জানলে বিপদে পড়বেন

করোনা মহামারির আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার বিশ্বজুড়ে নতুন ত্রাস সৃষ্টি করছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকা মহাদেশ গণ্ডি পেরিয়ে এই বিপজ্জনক ভাইরাস এখন বিশ্বের একাধিক দেশে ক্রমাগত থাবা বসাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আন্তর্জাতিক স্তরে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে এবং দেশে ভাইরাসের প্রবেশ রুখতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করল মোদী সরকার। আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের জন্য রাতারাতি জারি করা হলো অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা।

বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে ভারত সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড (DIAL) যৌথভাবে চালু করল সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্পর্শবিহীন প্ল্যাটফর্ম ‘এয়ার সুবিধা ২.০’ (Air Suvidha 2.0)।

কেন হঠাৎ এই জরুরি পদক্ষেপ?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (DRC) এবং উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক স্ট্রেইন ‘বান্ডিবুগিও ভাইরাস ডিজিজ’ (BVD) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ১৭ই মে এটিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের এক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করার পরেই নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি।

কাদের জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক?
ইবোলা-আক্রান্ত দেশগুলো (বিশেষ করে আফ্রিকা) থেকে সরাসরি আগত কিংবা ওই সমস্ত দেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট (সংযোজক বিমান) করে ভারতে আসা সমস্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এখন থেকে ‘এয়ার সুবিধা’ পোর্টালে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে বিমানবন্দরে নেমে কাগজের ফর্মে যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সারতে হতো, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ। তার বদলে বিমান থেকে নামার আগেই যাত্রীদের অনলাইনে বাধ্যতামূলক স্ব-ঘোষণা ফর্ম বা Self-Declaration Form (SDF) জমা দিতে হবে।

যাত্রা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগেই সারতে হবে কাজ: জেনে নিন নিয়মাবলী
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ঝুঁকিতে থাকা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের চিহ্নিত করতে ফর্মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হচ্ছে—

ভ্রমণ ইতিহাস: ফর্মটিতে যাত্রীকে তাঁর বিগত ২১ দিনের ভ্রমণের সম্পূর্ণ ইতিহাসের বিবরণ দিতে হবে।

উপসর্গ পরীক্ষা: শরীরে জ্বর বা ইবোলার কোনো উপসর্গ রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে।

সময়সীমা: ভারতে পৌঁছানোর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত এই অনলাইন ফর্ম পূরণ করার লিঙ্ক সক্রিয় থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাত্রীরা যখন বিমানে ওঠার আগে ‘ওয়েব চেক-ইন’ করবেন, ঠিক তখনই এই ফর্মটি পূরণ করে নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

বিমানবন্দরে করণীয়: ফর্মটি অনলাইনে পূরণ করার পর তার একটি কপি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ভারতে নামার পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাস্থ্য ডেস্ক (International Travel Health Desk) বা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে সেটি শুধু দেখিয়ে দিলেই মিলবে ছাড়পত্র।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের মাধ্যমে সংক্রামক রোগ নিমেষে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ‘এয়ার সুবিধা ২.০’-এর মতো ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা একদিকে যেমন ভারতকে সুরক্ষিত রাখবে, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদেরও বিমানবন্দরে কাগজের ফর্ম পূরণের ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়ে ভ্রমণকে আরও মসৃণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *