শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মহা বৈঠক! ‘চিকেন নেক’ করিডোরের সুরক্ষায় বিরাট ব্লুপ্রিন্ট অমিত শাহের

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ এলাকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দুই দিনের সফরে শিলিগুড়িতে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা, সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরালো করতেই তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।উত্তর-পূর্বের লাইফলাইন ও কৌশলগত গুরুত্বভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সংকীর্ণ এই শিলিগুড়ি করিডোর। এর একদিকে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্ত এবং অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চল। ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই করিডোরটি সড়ক ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান ধমনী। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে এই রুটে নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এসএসবি সদর দপ্তরে কর্মসূচি ও বৈঠকসফরের শুরুতেই শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর সীমান্ত সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে সীমান্ত পরিকাঠামো মজবুত করার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি জওয়ানদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ‘বারা খানা’য় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, এসএসবি প্রায় ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-নেপাল এবং প্রায় ৬৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-ভুটান সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে রয়েছে। উচ্চপর্যায় পর্যালোচনা বৈঠকসফরের দ্বিতীয় দিনে একটি উচ্চ-পর্যায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। যেখানে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন ড্রোন, সেন্সর ও ডেটা-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম সমন্বয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এই বৈঠকে। পাশাপাশি, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন— ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (BSA)-এর প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়াতে শিলিগুড়ির কাওয়াখালি মাঠে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়েছে। সামগ্রिक নিরাপত্তায় এই সফর অত্যন্ত দূরবর্তী প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।