দলবদলের মরসুমে বোমা ফাটালেন মহুয়া! মমতা-শিবিরে কি ভাঙন অনিবার্য?

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি যেন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার আগুন জ্বালিয়ে দিলেন। একদিকে যখন তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও দলবদল নিয়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই মমতার একসময়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ মহুয়ার এই বয়ান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে।

শুভেন্দুর সঙ্গে ‘আবেগঘন’ সম্পর্ক: বিবিসি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক পথ আলাদা হলেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্তরে এক “আবেগঘন সম্পর্ক” রয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। তৃণমূলে আমরা যখন একসঙ্গে ছিলাম, তিনি আমাকে অনেক সমর্থন করেছেন।”

স্মৃতির পাতায় কঠিন সময়: নিজের রাজনৈতিক জীবনের এক কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে মহুয়া জানান, ২০১৪ সালে লোকসভার টিকিট না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি সারারাত কেঁদেছিলাম। সেই দুঃসময়ে শুভেন্দু আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে যখন তিনি প্রথম করিমপুর থেকে নির্বাচনে লড়েন, তখন দলের প্রবীণরা পাশে না থাকলেও, তাঁর প্রথম জনসভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দুই।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি: মহুয়ার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। লোকসভার ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দিয়ে শাসক দল বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। একই সঙ্গে দলের অন্দরে বিদ্রোহী বিধায়কদের কার্যকলাপ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে।

শুভেন্দুকে ‘শুদ্ধিকরণের’ কৃতিত্ব: সবচেয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বিষয় হলো, মহুয়া মৈত্র তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একপ্রকার শুভেন্দু ও বিজেপিকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করতে পারেননি, শুভেন্দু ও বিজেপি তা এক নিমেষে করে দেখিয়েছে। মহুয়ার মতে, বিজেপি সুশৃঙ্খল এবং তাদের ক্যাডার-ভিত্তি শক্তিশালী। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ব্যর্থতা হলো তারা সব ধরনের নেতাকে—এমনকি অযোগ্যদেরও দলে জায়গা দিয়েছে।

মহুয়ার এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার কি তবে আগামী দিনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক দলবদলের ইঙ্গিত? নাকি এটি কেবলই দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন? সেই উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *