দুই বছরের নির্বাসন শেষ! বাংলাদেশে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেলেন আওয়ামি লিগ নেতারা

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর দীর্ঘ দুই বছর রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা থাকার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেল আওয়ামি লিগ। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন স্থানীয় সরকার ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে আওয়ামি লিগ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে।

কী এই শর্ত? নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আওয়ামি লিগের কোনো নেতা যদি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান, তবে তাঁকে একটি বাধ্যতামূলক হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে, তিনি কোনো নিষিদ্ধ বা দেশবিরোধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। এই হলফনামা যাচাই-বাছাইয়ের পরই কেবল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবে কমিশন।

কেন এই নমনীয়তা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিএনপির কৌশলী অবস্থান বড় ভূমিকা পালন করেছে। সূত্রের খবর, বিএনপির একটি অংশ আওয়ামি লিগের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নির্বাচনে আসার পক্ষপাতী। এর ফলে আওয়ামি লিগের ভেতরের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে আরও দুর্বল করা সহজ হবে বলে মনে করছে বিএনপি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামি লিগকে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই ছাড় প্রদানের ফলে আওয়ামি লিগের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদিও এটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের একটি সুযোগ, তবে এর আড়ালে দলটিকে ভেঙে ফেলার বা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবার অন্য একটি পক্ষ মনে করছে, এই সুযোগটি ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামি লিগ আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের এই লড়াই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *