ওপেক ছাড়ছে ইরাক! তেলের দাম কি তবে ৫০ ডলারে নেমে আসবে? বিশ্ববাজারে বড় অশনিসংকেত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পথ ধরে এবার ওপেক (OPEC) ত্যাগের ইঙ্গিত দিল ইরাক। নিজেদের উৎপাদন কোটা বৃদ্ধির দাবিতে অনড় বাগদাদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে তেল রফতানিকারক এই জোট থেকে বেরিয়ে যেতে দুবার ভাববে না তারা।

ইরাকের দাবি কী? ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেলিম আল-রিকাবি জানিয়েছেন, দেশটির অর্থনৈতিক চাহিদা ও উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে বর্তমান উৎপাদন কোটার কোনো সামঞ্জস্য নেই। ওপেকের বেঁধে দেওয়া সীমাবদ্ধতায় তাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক তাদের বর্তমান দৈনিক ৪০ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে আগ্রহী।

বিশ্ববাজারে কী প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাকের এই বিদ্রোহ যদি বাস্তব রূপ নেয়, তবে তা বিশ্ববাজারে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ওপেকের নিয়ম ভেঙে ইরাক যদি স্বাধীনভাবে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু করে, তবে বাজারে তেলের জোগান ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে। আর এর ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বর্তমান দরের চেয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম।

কেন এই পরিস্থিতি? ওপেক প্লাস জোটের অন্দরমহলে উৎপাদন কোটা নির্ধারণ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ দানা বাঁধছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ইস্যুতে ওপেক ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছিল। এবার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরাকের এই অবস্থান জোটের অস্তিত্বের সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ইরাক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলের মজুতদার দেশ। ফলে ওপেকের ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে জ্বালানি তেলের বাজারে একক কোনো শক্তির আধিপত্য আর থাকবে না। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইরাক সত্যিই জোট ত্যাগ করে, তবে তেলের দাম যে পর্যায়ে নেমে আসবে, তা ওপেক সদস্য দেশগুলোর কল্পনারও বাইরে।

এখন দেখার বিষয়, বাগদাদের এই হুঁশিয়ারিকে কতটা গুরুত্ব দেয় ওপেক কর্তৃপক্ষ, নাকি সত্যিই তেলের বাজারে এক নতুন ও অনিশ্চিত যুগের সূচনা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *