হোটেল-রেস্তোরাঁ ও শিল্পখাতে বড় স্বস্তি! এলপিজি সরবরাহের সব বিধিনিষেধ তুলল সরকার

শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকট কাটিয়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র শিল্পসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্যাকেটজাত এলপিজি সরবরাহের ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলপিজি সরবরাহ এখন সংকট-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতে বড় ছাড় শুধু প্যাকেটজাত নয়, পাইকারি (Bulk) এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা এসেছে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে পাইকারি এলপিজি সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। সরকার এখন তা আংশিকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়মে সরবরাহ সংকট-পূর্ববর্তী ব্যবহারের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাইকারি গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং ব্যবসার গতি ফেরাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
গার্হস্থ্য গ্রাহকদের ওপর কোনো প্রভাব নয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। মোট গার্হস্থ্য এলপিজি উৎপাদন দৈনিক কমপক্ষে ৪০,০০০ মেট্রিক টন (TMT) বজায় রাখা হবে, যা ঘরোয়া চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সরকার এই গ্যাস প্রবাহের একটি বড় অংশ এখন শিল্পখাতে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সি৩ এবং সি৪ গ্যাস প্রবাহের একটি বৃহত্তর অংশ শিল্পকাজের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতে ভারসাম্য ফেরাতে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সহজ হবে এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হওয়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও স্বস্তির বার্তা।