‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেব!’ শিবসেনা সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল মহারাষ্ট্র, দায়ের পুলিশি অভিযোগ

শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় দিনা পাটিলের এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। নিজের ভাষণে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া’ এবং পাঁচজনের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে এবার তাঁর বিরুদ্ধে ডম্বিভলি পুলিশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী।
কী ঘটেছে? সম্প্রতি এক জনসভায় সাংসদ সঞ্জয় পাটিল এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা সরাসরি হিংস্রতাকে উসকে দেয় বলে অভিযোগ। ডম্বিভলি পুলিশ থানায় দায়ের করা অভিযোগে ঠাকরে গোষ্ঠীর কল্যাণ লোকসভা জেলা সভাপতি অভিজিৎ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এই ধরনের ভাষা প্রয়োগ করা শুধুমাত্র বেআইনি নয়, বরং জননিরাপত্তার পরিপন্থী। অভিযোগে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে, সাংসদ যে ‘বোমা’ ও ‘পাঁচটি হত্যার’ প্রসঙ্গ টেনেছেন, তার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত প্রয়োজন।
মহালুটি সরকারে অস্বস্তি: সূত্রের খবর, এই ঘটনায় শাসক জোটের ভেতরেও তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের মধ্যে এই বিষয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। নেতাদের আশঙ্কা, সাংসদের এই ধরণের লাগামহীন মন্তব্যে সরকারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সাংসদকে দ্রুত কড়া বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সাংবাদিক সংগঠন ও বিরোধীদের তোপ: সাংসদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন সংবাদকর্মীরাও। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ও হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘মন্ত্রণালয় ও বিধিমণ্ডল বার্তালাহর সঙ্ঘ’। তাদের দাবি, সাংসদকে অবিলম্বে জনসমক্ষে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি তিনি তা না করেন, তবে তাঁর দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আন্দোলনের আঁচ: সঞ্জয় পাটিলের এই বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও। হিঙ্গোলিতে সঞ্জয় পাটিলের ছবি জুতোপেটা করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর কর্মীরা। সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
একজন জনপ্রতিনিধির এমন মন্তব্য মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আবহে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।