বিদেশের চাকরি ছেড়ে পাঞ্জাবে ফিরছেন যুবকেরা! ভগবন্ত মানের জমানায় সরকারি চাকরিতে নজিরবিহীন রেকর্ড

একসময় রুজি-রুজির টানে বা ভালো ক্যারিয়ারের আশায় পঞ্জাবের যুবসমাজের একটা বড় অংশ পাড়ি দিতেন বিদেশে। বিশেষ করে কানাডা, ব্রিটেনের মতো দেশে যাওয়ার হিড়িক ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এবার উলটপুরাণ! খোদ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দাবি করলেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পাঞ্জাব এখন দেশের যুবকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে। এমনকি যে যুবকেরা বিদেশে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরাও এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে রাজ্যে সরকারি চাকরি খুঁজছেন।
পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (PSPCL)-এ ৬৬৫ জন নতুন প্রার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার সময় এই বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
৪.৫ বছরে ৬৮,২৬৮ সরকারি চাকরি! ভাঙল অতীতের সব রেকর্ড
নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “পাঞ্জাবে একসময় সরকারি চাকরি মানেই ছিল ঘুষ, দুর্নীতি আর রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশ। আমাদের সরকার সেই অন্ধকার যুগের সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়েছে। কোনো রকম দুর্নীতি ছাড়া, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নীতির মাধ্যমে মাত্র সাড়ে চার বছরে ৬৮,২৬৮টি সরকারি চাকরি দিয়ে রাজ্য এক অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্য সরকারের এই স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি যুবসমাজের আস্থা এতটাই ফিরে এসেছে যে, প্রবাসে কর্মরত পাঞ্জাবিরাও এখন স্বদেশে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার তাঁদের নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে এবং পাঞ্জাবের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের অংশীদার করে তুলবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই স্বচ্ছতার কারণেই আজ পর্যন্ত একটি নিয়োগও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি।
মহিলা কর্মচারীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের, বিশেষ করে নারী শক্তির কল্যাণে একটি যুগান্তকারী নীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মহিলা কর্মচারীদের শিক্ষানবিশকাল (Probation Period) সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে পোস্টিং বা পদায়ন দেওয়া হবে। এর ফলে মহিলা কর্মীরা তাঁদের পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন এবং যাতায়াতের ঝক্কি থেকেও রেহাই পাবেন।
শিক্ষায় কেরালা-দিল্লিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে পাঞ্জাব!
শুধু কর্মসংস্থানই নয়, শিক্ষা ক্ষেত্রেও পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক সংস্কারের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি স্কুলগুলোর খোলনলচে বদলে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু করা এবং শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সুফল মিলতে শুরু করেছে।
ভগবন্ত মান গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, ভারত সরকারের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান ‘নীতি আয়োগ’ (NITI Aayog)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট কার্ড অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানে পাঞ্জাব এখন কেরালা, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লির মতো রাজ্যগুলিকেও পেছনে ফেলে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। শিক্ষা এবং যোগ্যতার এই যুগলবন্দিতেই পাঞ্জাবের যুবকদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হচ্ছে বলে আশাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।