‘বিখ্যাত চোরেরা তো পাশেই বসে থাকত!’ শিবির বদলাতেই মমতাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মদন মিত্র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও স্তরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ অতীতে বারবার উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটবাক্সেও তার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। আর এবার খোদ শাসক শিবিরের অন্দরে দীর্ঘদিনের মন্ত্রী ও বিধায়ক থাকা মদন মিত্রই সরাসরি দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন। তৃণমূল আমলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি আঙুল তুললেন সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই।

মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মদনের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার অতিবাহিত করার পর সম্প্রতি শিবির বদলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মদন মিত্র। এমনকি ঋত শিবিরের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। আর সেই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মদনের সাফ কথা, দলনেত্রী দলের অন্দরের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপই করেননি।

তৃণমূল আমলের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে মদন মিত্র বলেন, “বিখ্যাত বিখ্যাত চোর বলে যারা পরিচিত ছিল, তাদের ডানদিকে-বাঁদিকে ছাড়া দেখিনি। নাম বলতে চাই না। জেনেশুনে করতেন, ইচ্ছে করে করতেন নাকি ভুল বুঝে করতেন, কী না জানি না।” একইসঙ্গে কামারহাটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিধানসভা এলাকাতেও প্রচুর বেআইনি নির্মাণ রয়েছে, যেগুলি বড় কোনো ভূমিকম্প ছাড়াই যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

কুণাল ঘোষের পালটা প্রতিক্রিয়া
মদন মিত্রের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। মদনের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবিরের নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে পাল্টা বলেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তাঁরাই এখন বারবার শিবির ও দল বদল করছেন। মদন মিত্র ঠিক কাদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ধরনের কথা বলছেন এবং কাদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, তা একবার ভালো করে দেখে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, শুধু নিজস্ব দল বা পূর্বের নেতৃত্বকেই নয়, একই সঙ্গে বিজেপি সরকারকেও তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মদন মিত্র। কামারহাটির বিধায়কের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে “ভয় ইন এবং ভরসা আউট” পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং রাত আটটার পর থেকেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দলবদলের পর মদন মিত্রের এই ধারাবাহিক আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *