প্রায় এক দশক পর ফের বিদেশ থেকে চিনি আনছে ভারত! আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ সরকারের

দেশের বাজারে লাগাতার বাড়তে থাকা চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড়সড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্র। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর ফের বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হতে পারে ভারতকে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুল্কমুক্তভাবে প্রায় ১০ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির কথা ভাবছে সরকার।

বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মতো প্রধান উৎপাদক রাজ্যগুলোতে চিনির এক্স-মিল দাম, অর্থাৎ মিল থেকে বেরোনোর সময়কার দর প্রতি কুইন্টাল ৫,৪০০ থেকে ৫,৫৬০ টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই চিনির দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সামনেই উৎসবের মরসুম, যে সময়ে দেশে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়। আর ঠিক তার আগেই এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কিন্তু হঠাৎ কেন তৈরি হলো এই সংকট? বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনির দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মিলগুলোতে মজুতের ঘাটতি। গত অক্টোবরে শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশের চিনির ব্যবহার উৎপাদনের তুলনায় বেশি ছিল। এর জেরে মিলের গুদামে মজুত থাকা চিনির পরিমাণ দ্রুত কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই হিসাবের ভুলে প্রায় আট লক্ষ টন চিনি দেশ থেকে রপ্তানি হয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, ভারত এর আগে শেষবার ২০১৬-১৭ মৌসুমে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছিল।

হিসাব বলছে, ইথানল উৎপাদনে ব্যবহৃত চিনি বাদ দিলে চলতি মৌসুমে ভারতের প্রকৃত চিনি উৎপাদন ছিল প্রায় ২৭.৯ মিলিয়ন টন। মরসুমের শুরুতে প্রায় ৪.৭ মিলিয়ন টন প্রস্তুত চিনির মজুত থাকায় মোট পরিমাণ দাঁড়ায়েছিল ৩২.৬ মিলিয়ন টন। অন্যদিকে, এবছরের মোট ব্যবহার প্রায় ২৮ মিলিয়ন টন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর সঙ্গে রপ্তানি হওয়া আট লক্ষ টন যুক্ত হওয়ায় উদ্বৃত্ত মজুত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সাধারণত ভারত প্রায় তিন মাসের ব্যবহারের সমতুল্য অর্থাৎ প্রায় ৬ মিলিয়ন টন মজুত নিরাপদ মনে করলেও, বর্তমানে সেই নিরাপত্তা বলয় অনেকটাই ঝুঁকির মুখে।

এদিকে সরকার ১০ লাখ টন চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও, এর ফলে বাজারে চিনির দাম রাতারাতি হু হু করে কমে যাবে এমনটা ভাবছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আমদানির প্রভাবে চিনির দাম বড়জোর প্রতি কুইন্টালে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। তবে চিনিকলগুলোর উৎপাদন খরচ প্রতি কুইন্টাল ৪,২০০ থেকে ৪,৩০০ টাকার মধ্যে থাকায় তাদের খুব একটা লোকসানের মুখে পড়তে হবে না। অন্য একটি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের এই আমদানির খবরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিউইয়র্কে অপরিশোধিত চিনির দাম বেড়ে প্রতি পাউন্ডে ১৭.৪৭ সেন্টে পৌঁছেছে, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *