নাভি পরিষ্কার করছেন তো? অজান্তেই লুকিয়ে থাকা মারাত্মক ইনফেকশন এড়াতে জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার রুটিনে শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের যত্ন নেওয়া হলেও অবহেলার শিকার হয় নাভি। অথচ শরীরের এই অতি সংবেদনশীল অংশটিতেই ঘাম, ময়দা, মৃত কোষ এবং সুতির কাপড়ের রোঁয়া জমে তৈরি হতে পারে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আদর্শ বাসস্থান। চিকিৎসকদের মতে, নাভি নিয়মিত ও সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে সেখানে মারাত্মক ইনফেকশন বা সিস্টের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইল নাভি পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম এবং অবহেলার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত।
১. নাভিতে জমে থাকা ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব
নাভির গভীর ও ভাঁজযুক্ত গঠন এমন যে সেখানে খুব সহজেই ময়লা আটকে যায়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে সেখানে লক্ষ লক্ষ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্ম নেয়। এর ফলে নাভিতে তীব্র দুর্গন্ধ, চুলকানি এবং লালচে ভাব বা ইনফেকশনের সৃষ্টি হতে পারে।
২. ওম্ফলাইটিস বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নাভিতে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণের ফলে যে প্রদাহ হয় তাকে ওম্ফলাইটিস (Omphalitis) বলা হয়। বিশেষ করে গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ধরনের সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যথা বা পুজ জমার মতো গুরুতর উপসর্গের সৃষ্টি করতে পারে।
৩. নাভির পাথর বা আম্ফালোলিত (Omphalolith) তৈরির ঝুঁকি
দীর্ঘদিন ধরে নাভি পরিষ্কার না করলে সেখানে ময়লা, সিবাম ও মৃত কোষ জমা হয়ে শক্ত পাথরের মতো পদার্থ তৈরি হতে পারে, যাকে আম্ফালোলিত বলা হয়। এটি যখন চারপাশের ত্বকে চাপ সৃষ্টি করে, তখন তীব্র অস্বস্তি ও প্রদাহ শুরু হয়।
৪. পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি ও সতর্কতা
চিকিৎসকরা বলছেন, খুব কড়াভাবে বা নখ দিয়ে খোঁচাখুচি করে নাভি পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে সংবেদনশীল ত্বকে আঘাত লেগে ক্ষত হতে পারে। স্নানের সময় ইষদুষ্ণ জলে সামান্য মাইল্ড সোপ বা অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড দিয়ে নরম তুলো বা কটন বাড ব্যবহার করে আলতোভাবে নাভি পরিষ্কার করা উচিত। পরিষ্কারের পর শুকিয়ে নিয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখা ভালো।
সুস্থ ও সংক্রমণমুক্ত থাকতে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের পাশাপাশি নাভির পরিচ্ছন্নতার প্রতিও সমান নজর দেওয়া জরুরি। সামান্য সচেতনতাই আপনাকে রক্ষা করতে পারে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে।