দীপাবলির আগেই আজ মহা সংকটনাশক পুজো! কোন শুভ মুহূর্তে বজরংবলীর আরাধনা করলে কাটবে সমস্ত বাধা?

দীপাবলির ঠিক আগের দিন আজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬ শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে বিশেষ হনুমান পুজো। বিশেষ করে গুজরাট সহ দেশের নানা অঞ্চলে বজরংবলীর আরাধনার মাধ্যমে শক্তি, সাহস এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করেন ভক্তরা। একই সঙ্গে আজকের এই দিনটি ‘কালী চৌদাস’ বা ‘নরক চতুর্দশী’ হিসেবেও পালিত হয়, যা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দৈব শক্তির জয়ের প্রতীক।
পুজোর শুভ মুহূর্ত ও লগ্ন
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছরের দীপাবলি হনুমান পুজোর শুভ লগ্ন শুরু হচ্ছে আজ রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে এবং তা মধ্যরাত পেরিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর রাত ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত চলবে। ভক্তরা এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থনা, আচার-অনুষ্ঠান, মন্ত্র জপ এবং হনুমান জয়ন্তী ব্রত কথা পাঠের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করবেন।
কালী চতুর্দশীতে হনুমান পুজোর তাৎপর্য
ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, কালী চতুর্দশীর রাতটি এমন একটি সময় যখন অশুভ শক্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। ভয় ও নেতিবাচকতার বিনাশকারী হিসেবে পরিচিত ভগবান হনুমানকে এই সমস্ত ক্ষতিকর শক্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পুজো করা হয়। ‘সঙ্কট মোচন’ বা সমস্ত বিপদের উদ্ধারকারী হিসেবে বজরংবলী তাঁর ভক্তদের সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শান্তি প্রদান করেন বলে বিশ্বাস। এই দিনে ভক্তরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন, হনুমান চালিসা পাঠ করেন এবং সিঁদুর, তেল ও লাড্ডু নিবেদন করে অভ্যন্তরীণ শক্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা করেন।
দীপাবলির সঙ্গে সংযোগ
লঙ্কা জয় করে ভগবান রামের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনের ঘটনার সঙ্গেই এই পুজোর গভীর যোগ রয়েছে। পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, হনুমানের অতুলনীয় ভক্তিতে প্রীত হয়ে রামচন্দ্র তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন যে, স্বয়ং রামের আগেই তাঁর পুজো করা হবে। সেই থেকেই দীপাবলির আগের সন্ধ্যায় মূল উৎসব শুরুর আগে অনেক ভক্তই হনুমান পুজো সম্পন্ন করে থাকেন, যা অশুভ অন্ধকার পেরিয়ে দিব্য আলোর বরণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়।
হনুমান পুজোর প্রধান আচার-অনুষ্ঠান
পবিত্র স্নান ও বেদি স্থাপন: ভক্তরা প্রথমে পবিত্র স্নান সেরে পূর্বমুখী করে হনুমানজির মূর্তি বা ছবি স্থাপন করে বেদি প্রস্তুত করেন।
উপচার নিবেদন: পুজোয় লাল ফুল, সিঁদুর, তিলের তেল এবং লাড্ডু নিবেদন করা হয়।
মন্ত্র জপ: নেতিবাচকতা দূর করতে সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে হনুমান চালিসা, বজরং বাণ বা হনুমান অষ্টক পাঠ করা হয়।
ধ্যান: বিশ্বাস, সাহস, ভক্তি ও শৃঙ্খলার মতো হনুমানজির গুণাবলি মনে রেখে এই দিনে বিশেষ ধ্যান করা হয়, যা পুজোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।