অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে রেলকর্মীদের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর বড় দাবি! পেশ করা হলো ৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব

দেশের কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর মতো এবার রেলকর্মীদের (Railway Employees) জন্য বড়সড় বেতন বৃদ্ধি, উন্নত পদোন্নতির সুযোগ এবং অতিরিক্ত ভাতার জোরালো দাবি উঠল। অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাছে রেলকর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ছয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছে দেশের অন্যতম প্রধান কর্মচারী সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া রেলওয়েমেনস ফেডারেশন’ (AIRF)। কর্মরত রেলকর্মীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের সুবিধার কথাও এই প্রস্তাবগুলিতে তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই দাবিগুলি এখনও কেবল প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে এবং এগুলিকে এখনই অনুমোদিত বেতন বৃদ্ধি বলে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

কবে গঠিত হয়েছিল অষ্টম বেতন কমিশন?
বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল অষ্টম বেতন কমিশন। কমিশনের কার্যকালের শর্ত বা ‘Terms of Reference’ অনুযায়ী, কমিশন গঠনের পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের মতামত, প্রস্তাব ও অভিযোগ শোনার কথা। এরপর সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে কেন্দ্রের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে এই কমিশন।

৩০ অক্টোবর কমিশনের কাছে দাবি পেশ করে AIRF
চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক বৈঠকে অংশ নেয় AIRF। সেই বৈঠকে রেলের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের কাজের পরিবেশ, পেশাগত ঝুঁকি এবং সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ‘ট্র্যাক মেনটেইনার’ (Track Maintainer), মহিলা ‘লোকো পাইলট’ (Loco Pilot) এবং ‘ট্রেন ম্যানেজার’ (Train Manager)-দের দৈনন্দিন কাজের নানা সমস্যার বিষয়গুলি আলোচনা সভায় স্থান পায়।

বৈঠকের পর AIRF-এর সাধারণ সম্পাদক শিব গোপাল মিশ্র সংগঠনের সমস্ত শাখাগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশনের কাছে পেশ করা প্রস্তাবগুলির বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

সংগঠনের যুক্তি, ভারতীয় রেলের দ্রুত আধুনিকীকরণের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের কাজের ধরনও আমূল বদলে যাচ্ছে। রোলিং স্টক, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তাই সেই অনুযায়ী কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো উচিত।

কেন বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির জোরালো দাবি?
AIRF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধুনিক রেল পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে যাঁরা ট্রেনের যন্ত্রাংশ, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং রেললাইন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের ঝুঁকি সাধারণ চাকরির তুলনায় অনেকটাই বেশি। চরম আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময়ই তাঁদের পেশাগত ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। তাই কাজের চাপ, দক্ষতা এবং ঝুঁকির এই বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতা নির্ধারণ করা দরকার।

রেলের সমস্ত বিভাগের কর্মীদের কাজের পরিবেশ ও চাপ যে এক নয়, সেকথাও স্পষ্ট করে জানিয়েছে ইউনিয়ন। উদাহরণ হিসেবে ‘ট্র্যাক মেনটেইনার’-দের কাজের কথা তুলে ধরা হয়েছে। রেললাইন পরীক্ষা করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি মেরামতির মতো কঠিন কাজ করতে গিয়ে তাঁদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। ফলস্বরূপ, তাঁদের কাজের যথাযথ সামাজিক স্বীকৃতি এবং উপযুক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়া জরুরি।

শুধু AIRF নয়, আসরে রয়েছে অন্য সংগঠনগুলিও
উল্লেখ্য, শুধু AIRF একা নয়, অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি ও সুপারিশ জমা দিয়েছে দেশের আরও একাধিক প্রভাবশালী কর্মচারী সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM)-এর স্টাফ সাইড, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ (BMS) এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সঙ্ঘ (BPMS)। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সংগঠন কর্মরত কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কল্যাণে একাধিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

এখন কমিশনের কাজ হবে এই সমস্ত সংগঠনগুলির দাবি, পরিসংখ্যান ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা। সমস্ত দিক বিবেচনা করে আগামী ২০২৭ সালের মে-জুন মাস নাগাদ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিজেদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারে কমিশন। সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই কেবল বেতন, ভাতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: AIRF-এর এই দাবিগুলি বর্তমানে কেবল প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলি কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত বেতন বৃদ্ধি বা ভাতা সংশোধন নয়। কমিশনের সুপারিশ এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরই সমস্ত কিছু নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *