ধাউ ধাউ করে জ্বলল অয়েল ইন্ডিয়া! তেঙ্গাখাটে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৪ জন!

আসামের ডিব্রুগড়ে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের (Oil India Limited) একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্রে ঘটে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ। দুর্ঘটনার পর থেকে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহতা স্পষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক কর্মীর মৃত্যুর পর এই দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২-এ। এখনও পর্যন্ত গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও পাঁচজন কর্মী, যাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ডিব্রুগড়ের নার্সিংহোমে ২ জনের মৃত্যু, ৪ জন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে
শুক্রবার সকালে ডিব্রুগড়ের তেঙ্গাখাট এলাকার অয়েল ইন্ডিয়ার একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনস্টলেশনে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন সেখানে কর্মরত কর্মীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ডিব্রুগড়ের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় তপস জ্যোতি গগৈ নামে দ্বিতীয় এক কর্মীর।

এর আগে মঙ্গলবার রাজু দত্ত নামে অয়েল ইন্ডিয়ার আরও এক কর্মী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও চার কর্মীকে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁদের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
অয়েল ইন্ডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ঠিক ৯টা ৫ মিনিট নাগাদ তেঙ্গাখাটের ‘ইন্টারমিডিয়েট ট্যাঙ্ক ফার্ম’ (ITF)-এর ইন্ডাইরেক্ট বাথ হিটার (IDBH) এলাকায় হঠাৎই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে অংশে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি গত ৪ নভেম্বর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের (Maintenance) কাজের জন্য মূল কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন বা ‘আইসোলেটেড’ করে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, সাধারণ উৎপাদন কাজ সেখানে বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়েছে।

পেট্রোলিয়াম ফ্রন্টলাইনের নিরাপত্তায় বড় গলদ?
ইন্টারমিডিয়েট ট্যাঙ্ক ফার্ম মূলত এমন একটি এলাকা, যেখানে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহণ বা পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের আগে সাময়িকভাবে বিশাল ট্যাঙ্কে মজুত রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্চ দাহ্য স্থানে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলাকালীন সামান্যতম নিরাপত্তার গাফিলতি বা ত্রুটিই এত বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার আকস্মিকতা সামাল দিতে অয়েল ইন্ডিয়ার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ডিব্রুগড়ের ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড।

সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই কমিটি দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করবে। ভবিষ্যতে যাতে দেশের কোনো তেল ও গ্যাস শিল্পকেন্দ্রে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *