“সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ!” অভিষেকের জন্মদিনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বিজেপি সভাপতির চরম কটাক্ষ!

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে চরম উত্তেজনা ছড়াল কালীঘাট চত্বরে। অভিষেকের বাড়ির কাছেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় বচসা, হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের দাবি, অন্যায়ভাবে তাদের অনুগামীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, পদ্মশিবির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে স্থানীয়দের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলেই দাবি করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার মধ্যরাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটা-একটা নাগাদ কালীঘাট রোডে অভিষেকের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তাঁর জন্মদিনের উৎসব পালন করছিলেন তৃণমূল অনুগামীরা। সেই সময় পটুয়াপাড়া এলাকা থেকে কালী প্রতিমা নিয়ে যাচ্ছিলেন একদল যুবক, যাঁদের বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করা হয়।

ঠিক সেই মুহূর্তেই দুই পক্ষের মুখোমুখি হওয়ায় ‘চোর চোর’ এবং পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উঠতেই উত্তেজনার পারদ চড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বচসা গড়ায় হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টিতে। ভোররাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে তৃণমূল সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। পরবর্তীতে ভোরবেলায় লালবাজার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে এলাকা খালি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে।

প্রাণের ঝুঁকির অভিযোগ এনে থানায় এফআইআর
এই ঘটনায় মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল শিবির। অভিষেকের অনুগামীদের তরফ থেকে কালীঘাট থানায় ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র মারধরই নয়, আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল।

বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির সামনে ও সংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে।

“অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ!” আক্রমণ শমীক ভট্টাচার্যের
এই ঘটনায় বিজেপির নাম জড়ানোয় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “উনি (অভিষেক) বলেছিলেন ‘খেলা হবে’। এখন আয়নার সামনে দাঁড়ালে অফসাইডের পতাকা দেখতে পাচ্ছেন। এর সাথে ভারতীয় জনতা পার্টির বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। যা দেখছেন, সব ৭৫ আর ২৫-এর ভাগের গোলমাল! অতীতে দেখানো ঔদ্ধত্যের প্রতিধ্বনি হচ্ছে এখন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কারোর জন্মদিনে এরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে কোনো লাভ হয় না। তবে একটা কথা প্রচলিত আছে না— ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’। বর্তমানে তৃণমূলে সেটাই ঘটছে।”

সব মিলিয়ে, জন্মদিনের আবহেই কালীঘাটের এই ধুন্ধুমার কাণ্ড নিয়ে এখন রাজ্যের রাজনীতিতে পারদ তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *