“এটা কি আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি?” মধ্যরাতে রাজপথে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাত, তোলপাড় রাজনীতি!

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের মাঝরাতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে। আনন্দ-উৎসবের আবহ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল রণক্ষেত্রে। মিডনাইট বার্থডে সেলিব্রেশন চলার সময় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের তীব্র রোষের মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। নিজের বাড়ির সামনে রাস্তায় নেমে পুলিশের সঙ্গে চরম বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন অভিষেক।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে, আনুমানিক দুটো নাগাদ। অভিযোগ, অভিষেকের বাড়ির অদূরে হঠাৎই একদল বিজেপি সমর্থক জড়ো হয়ে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে যায়। ছেঁড়া হয় অভিষেকের ছবি দেওয়া ব্যানার ও পোস্টার। সোরগোল শুনে রাত আড়াইটে নাগাদ নিজে বাড়ির বাইরে বের হয়ে আসেন তৃণমূল সাংসদ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা অভিষেককে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়ির ভেতরে ফিরে যাওয়ার এবং রাজপথ খালি করার অনুরোধ জানালে মেজাজ হারান সাংসদ। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে অভিষেক পুলিশকে প্রশ্ন করেন, “আমি জায়গা খালি করব না। এখানেই বসব। এটা কি আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি?” জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমার পৈত্রিক নয়, এটা কারোর পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, তাই বলছি।” এই কথায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ অধিকারিকের দিকে তেড়ে গিয়ে অভিষেক বলেন, “শুনুন, আপনি পাবলিক সার্ভেন্ট। আমি পাবলিক রিপ্রেজেন্টেটিভ। আপনি মানুষের চাকর, আমি মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি।”

এখানেই থামেননি সাংসদ। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ কড়া পদক্ষেপ না করে কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের ব্যাচ দেখিয়ে তিনি তোপ দাগেন, “এই যে ব্যাচ পরে আছেন, এটা পদ্মফুল নয়। দালালিটা কম করুন। আমাদের একটা ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন। ১৫ মিনিটের মধ্যে যদি না ছাড়েন, তবে আমি থানার বাইরে গিয়ে ধরনায় বসব।”

পরবর্তীতে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আজ পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুন্ডারা এসেছিল। এমনকি তাদের কাছে রিভলভার এবং ভারী পাথর ছিল। আধলা ইট ও পাথর ছুড়ে মেরে আমাদের কর্মীদের গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাপস নামের আমাদের এক সহকর্মীর হাতের টিস্যু থেঁতলে গিয়েছে, চিকিৎসকরা বলেছেন প্লাস্টিক সার্জারি করতে হবে। অন্য এক কর্মীর চোখের নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছে। পুরো তাণ্ডবটি পুলিশের চোখের সামনে ঘটেছে।”

নিজের সুরক্ষার অভাব ও পূর্বের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাংসদ আরও বলেন, “এটা আমার ওপর প্রথম আক্রমণ নয়। সোনারপুর থেকে শুরু করে ১৯ জুন আমি যখন দিল্লি থেকে ফিরি, তখনও আমাকে বন্দুক নিয়ে খুন করার চেষ্টা হয়েছিল। আমাদের কর্মীরা সেবার দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে ধরে অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।” অভিষেকের জন্মদিনের রাতে কালীঘাটে ঘটে যাওয়া এই অভূতপূর্ব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *