“রাম জন্মভূমিতে দীপ জ্বললেই নিজের ঘরে প্রদীপ জ্বালান!” ১০ম দিব্য দীপাবলিতে ঐতিহাসিক বার্তা যোগী আদিত্যনাথের!

আলোকপর্ব দীপাবলি ও ঐতিহাসিক ‘দিব্য দিপোৎসব’-এর ১০ম সংস্করণে সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাম জন্মভূমিতে প্রথম দীপ প্রজ্জ্বলনের সাথে সাথেই দেশের প্রতিটি ঘর-আঙিনায় প্রদীপ জ্বালিয়ে সনাতন সত্যের বিজয় উৎসব পালনের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। পবিত্র সরযূ নদীর তীরে অবস্থিত ধর্মনগরী শ্রী অযোধ্যা ধাম আজ অলৌকিক আনন্দ, গৌরব এবং ভক্তির মহাকুম্ভ ‘দিব্য দিপোৎসব’-এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

সনাতন চেতনার পুনর্জাগরণ ও আলোর মহোৎসব
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি সনাতনীর যে আবেগ ও অপেক্ষার প্রহর ছিল, আজ তা লাখো প্রদীপের সোনালী আলো হয়ে অন্ধকার দূর করতে চলেছে। সত্য ও ধর্মের শাশ্বত জয়ের বার্তা দিয়ে সমগ্র অবধপুরী আজ আনন্দ ও ভক্তিতে উদ্বেলিত।

এই ঐতিহাসিক ও অলৌকিক আয়োজনের মর্যাদা বাড়াতে উপস্থিত হওয়া দেশের উপরাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার, বিশিষ্ট কূটনৈতিক প্রতিনিধি, সাধু-সন্ত এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের প্রভু শ্রীরামের পবিত্র জন্মভূমিতে আন্তরিক স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমতা, সম্প্রীতি ও ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার)-এর এই মহান ভাবনাই এই দিপোৎসবকে ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় করে তুলেছে।

“প্রদীপ কেবল মাটির পাত্র নয়, চেতনার জাগরণ”
দিপোৎসবের গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রদীপ কেবল মাটির একটি পাত্র নয়, এটি চেতনার সত্য জাগরণ। বহু যুগ ধরে প্রদীপ আমাদের শিখিয়ে আসছে যে অন্ধকারের সাথে লড়াই করতে হয় না, কেবল একটি আলোর জ্যোতি জ্বালিয়ে দিতে হয়—তাতেই অন্ধকার দূর হয়ে যায়।

২০১৭ থেকে শুরু: এক গৌরবময় দশকের পথচলা
২০১৭ সালে সরযূ নদীর তীরে প্রজ্জ্বলিত একটি ছোট্ট প্রদীপের শিখা আজ ভারতের সাংস্কৃতিক গৌরবকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ উল্লেখ করেন যে, এই ঐতিহাসিক ১০ম সংস্করণ কেবল লক্ষ প্রদীপের আলো ও গিনেস বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত ত্রেতাযুগের বৈভব, সনাতন সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ এবং জাতির আত্মগৌরবকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার এক সোনালী অধ্যায়। রাম কি পৈড়িতে জ্বলে ওঠা আলো যেমন আঁধার দূর করছে, তেমনই তা স্থানীয় স্বাবলম্বন ও অন্ত্যোদয়ের নতুন পথ দেখাচ্ছে।

রামরাজ্য ও সামাজিক সমতার আহ্বান
দিপোৎসবের এই বিশেষ ক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান, রামরাজ্যের মূল ভাবনাই হলো উন্নয়নের আলো যেন সমাজের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির কাছেও পৌঁছায়। প্রভু শ্রীরামের আদর্শকে জীবনে আপন করে নিয়ে আস্থা, সামাজিক সাম্য ও সেবার এই সনাতন জ্যোতিকে যেন যুগের পর যুগ ধরে প্রজ্জ্বলিত রাখা যায়—সেই সংকল্প নেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *